আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি সামান্য কমলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আগাম বন্যায় জেলার চার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় খাদ্য, সুপেয় পানি, নিরাপদ আশ্রয়সহ নানা সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসি মানুষ। একইসঙ্গে কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। বন্যার পানি কিছুটা কমলেও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। সেইসাথে যোগ হয়েছে স্যানিটেশন সমস্যাও।

ঘরে পানি, খাদ্য সংকট আর নদী ভাঙ্গনে অস্থির মানুষজনের মাঝে শুরু হয়েছে আহাজারি। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগে করেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দের একটি খাদ্যের দানাও বন্যা দূর্গতদের মাঝে পৌঁছেনি বলে তাদের অভিযোগ।

১ জুলাই (বুধবার) পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ফসলসহ প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে চিনা বাদাম, আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ ১শ’ ৫ একর উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরী করেছে। যা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

সাঘাটা-গাইবান্ধা সড়কের ভাঙ্গামোড় এলাকায় সড়কের গাইড ওয়াল ধ্বসে যায়। এতে আতংকিত হয়ে পড়ে বাধের পশ্চিম পাশের মানুষজন। সংবাদ পেয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন এসে ধ্বসে যাওয়া স্থানে কাঠের পাইলিং দিয়ে গাইডওয়াল রক্ষার চেষ্টা করে। ফলে ওই এলাকায় সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন অব্যাহত থাকলে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য