তুরস্ক ব্যাপক সংখ্যক জঙ্গিকে লিবিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে দেশটিতে আঙ্কারার হস্তক্ষেপকে ‘অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

পাশাপাশি তিনি উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে ভাড়াটে রুশ সেনাদের তৎপরতার নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিধাদ্বন্দ্বেও ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

লিবিয়া, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল ও ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে তেল অনুসন্ধান নিয়ে সম্প্রতি নেটো মিত্র ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে তিক্ততা দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একরকম সঙ্কল্প নিয়েই লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে তুরস্ক। তারা সামরিক ড্রোন, অস্ত্রশস্ত্র ও সিরিয়া থেকে মিত্র যোদ্ধাদের পাঠিয়ে লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন যোগানো শুরু করেছে। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের বছর ধরে চলা হামলা প্রতিহত করাই এর উদ্দেশ্য।

“আমি মনে করি এটি নিজেকে নেটো সদস্য বলে দাবি করা একটি দেশের ঐতিহাসিক ও অপরাধমূলক দায়,” সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

তুরস্ক ‘ব্যাপকভাবে’ সিরিয়া থেকে ‘জঙ্গিদের’ লিবিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রয়টার্স লিখেছে, তিনি সিরিয়ার যোদ্ধাদের ‘জঙ্গি’ বলে অভিহিত করলেও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি।

ফ্রান্স নিজেই খলিফা হাফতারকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এর আগে লিবিয়ার ইসলামপন্থি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাফতারকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল প্যারিস। কিন্তু হাফতারকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফ্রান্স।

অভিযোগ অস্বীকার করলেও রাশিয়াসহ হাফতারের মিত্রদের বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সমালোচনা করা থেকে বিরত রয়েছে তারা। অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে হাফতারকে অস্ত্র দেয়ার জন্য জাতিসংঘ ইউএইকে সতর্ক করা সত্ত্বেও এ নিয়ে কিছু বলেনি তারা।

হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) কে সমর্থন দিচ্ছে ইউএই, মিশর ও রাশিয়া।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তুরস্কের হস্তক্ষেপের কারণে লিবিয়ায় অবস্থান শক্ত করতে রাশিয়া উৎসাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশন জানায়, ভাড়াটে রুশ সেনারা শারারা তেলক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে।

মে মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার ওয়াগনার গ্রুপ লিবিয়ায় ১২০০ জনের মতো সৈন্য মোতায়েন করেছে।

শুক্রবার ম্যাক্রোঁ পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তারা দুজনেই লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।

রুশ বেসরকারি ঠিকাদাররা রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে না, পুতিন তাকে এমনটি জানিয়েছেন বলে সোমবার জানান ম্যাক্রোঁ।

ম্যাক্রোঁ বলেছেন, “ওয়াগনারের বাহিনী যে সব তৎপরতার চালাচ্ছে তার বিষয়ে আমি খুব পরিষ্কারভাবে আমার নিন্দা কথা তাকে (পুতিন) জানিয়েছি।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য