দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরী মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে চাকুরী দেয়ার নাম করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নিরাপত্তা প্রহরী মামুনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ও বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে। চাকুরীর প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে চাকুরী করার ফলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্নের।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ১০নং কমলপুর ইউনিয়নের লাটুয়াপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ আরাফাত হোসেন (২২) সম্প্রতি দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ও বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরী সদর উপজেলার মওলা পাড়ার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মামুনুর রশীদ (৩৫) গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালের ৬ আগষ্ট রাত ৯টায় দিনাজপুর শহরের কালিতলা থানা মোড়ে মা মিষ্টান্ন ভান্ডারে চুক্তি মোতাবেক ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অবশিষ্ট ২০ হাজার টাকা চাকুরীর পর প্রদানের আশ্বাস প্রদান করা হয়। নিরাপত্তা প্রহরী মামুন ২ মাসের মধ্যে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটে চাকুরী প্রদান করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় সদর উপজেলার রানীগঞ্জ গ্রামের সামসুল আলমের ছেলে তাহমিদুল আলম ও বিরল উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে সাব্বির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

চাকুরীর জন্য দেয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অঙ্গীকারনামা/ চুক্তিপত্র গ্রহণ করা হয়। কিন্তু টাকা প্রদানের ২ মাস অতিক্রান্ত হলেও মামুন আমাকে চাকুরী দিতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী আমি মোবাইল ফোনে আমার টাকা ফেরত মামুন নানা টাল বাহান ও অজুহাত দেখাতে শুরু করে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর সাক্ষী তাহমিদুল আলমসহ আমি গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে মামুন আমাকে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। আমি যদি এই বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে নিরাপত্তা প্রহরী মামুন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রো পলিটন থানায় একই ধরনের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তিনি হত্যা মামলার আসামী। তিনি গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে এর আগে দিনাজপুরের অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটে নিরাপত্তা প্রহরী মামুন রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, চাকুরী দেয়ার নাম করে তিনি কোন ধরনের টাকা কারো কাছ থেকে নেননি। এছাড়াও ৩০০ টাকা যে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা/ চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়েছে তার মধ্যে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য