রাজধানী বেইজিংয়ের কাছে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কয়েকজন শনাক্ত হওয়ার পর ওই এলাকায় কঠোর লকডাউন পুনর্বহাল করেছে চীন।

হেবেই প্রদেশের এনশিন কাউন্টির এ লকডাউনে প্রায় চার লাখ লোক বিধিনিষেধের কবলে পড়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে চীনে নতুন করোনাভাইরাস মহামারী দেখা দেয়ার পর দেশটি ধারাবাহিকভাবে নতুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এখন সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রবাহ রুখতে অল্প সংক্রমণের ঘটনাগুলোও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

এনশিন ‘পুরোপুরি ঘেরাওয়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত’ অবস্থায় থাকবে বলে রোববার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, শুধু জরুরি বিভাগের কর্মীরা বাসা থেকে বের হওয়ার অনুমতি পাবেন আর প্রয়োজনীয় রসদ কেনার জন্য প্রতিদিন প্রত্যেক পরিবারের একজন সদস্যকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে।

এলাকার বাসিন্দা নন এমন কোনো লোক এই এলাকার কোনো ভবনে, গ্রামে অথবা সমাজে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এনশিন এলাকাটি বেইজিং থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে। চীনের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এনশিনে মোট ১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এলাকাটি চীনের নগর কেন্দ্রগুলোর মতো ঘনবসতিপূর্ণ নয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংক্রমণের বিস্তার থামানো যাবে বলে আশা করছেন তারা।

বিবিসি লিখেছে, এখন পর্যন্ত চীনের মোট আক্রান্তের সংখ্যা করোনাভাইরাস আক্রান্ত অধিকাংশ দেশের কাছে ইর্ষণীয় হয়ে আছে, কিন্তু তারপরও বেইজিংয়ে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে চীনের কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রবাহ শুরুর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

সোমবার সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বেইজিংয়ে আরও ১৪ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে, এতে মধ্য জুনে নগরীর একটি পাইকারী বাজার থেকে নতুন করে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবের পর থেকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩১১ জনে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল বা ভারতের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক কম হলেও যে কোনো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন।

ওই বাজারে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে বেইজিংয়ের বেশ এলাকা লকডাউনে আছে। এসব এলাকায় চলাচল সীমাবদ্ধ করে ব্যাপক পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে।

নতুন এই সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগে চীনের রাজধানীতে টানা ৫৭ দিন ধরে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মার্চের শুরুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার পেরেনোর পর সাফল্যজনকভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনে চীন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ চীনে চার হাজার ৭০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য