আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গত চার দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এক দিকে করোনা ভাইরাস অন্য দিকে পানি বন্দি ও ভাঙ্গন। এ অবস্থায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে বানভাসী পরিবাররা।

রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে, জেলার বন্যায় রাস্তা-ঘাটে পানির নিচে তলি গিয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষরা। বেশির ভাগ বানভাসী মানুষ গত চার দিন থেকে রান্না করতে না পেরে পরিবারপরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পরিবার গুলোর মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গত চার দিনও বানভাসী মাঝে সরকারী ভাবে কোন খাদ্যসামগ্রী পৌছায়নি। অনেক পরিবার স্থানীয় গাইডবান রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে পরিবার পরিজনসহ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পরিবার গুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এদিকে গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার উপজেলার সানিয়াজান, বাঘের চর, জিঞ্জির পাড়া নিজ শেখ সুন্দর, পাড় শেখ সুন্দর,গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয় আনী, সিন্দুর্না, চর সিন্দুনার্ পাটিকাপাড়া, হলদি বাড়ী,সিংগিমারী, ধুবনী, উত্তর ধুবনী, ডাউয়া বাড়ি, বিছন দই, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডারের আমিনগঞ্জ, কাকিনা,আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, পলাশী, সদর উপজেলার চর বাসুনিয়া খুনিয়াগাছ, রাজপুর,গোকুণ্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

তিস্তা পাড়ের রওশনরা বেগম (৪২) বলেন, ঘরে পানি উঠায় রান্না করতে পারিনি। বন্যার পানিতে হাতে পায়ে ঘাঁ ধরেছে কোথাও বেড়তে পারিনি।

বানভাসী গড্ডিমারী ইউনিয়নের আবদুর রহমান (৫৫) জানান, হু হু কইরা বানের পানি আইসা রাস্তাঘাট ও ঘরে পানি ঢুকে পড়ে আমরা বিপদে পড়েছি। গত তিন দিও কোন সরকারী ত্রাণ পাইনি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাঘের চর এলাকায় হাফেজ আলী বলেন, গত ৪দিন আগে বানের পানির স্রোতে বাড়ি ভিটে ভেঙ্গে গেছে। এখন দোয়ানী গ্রামের সাধুর বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে বাড়ি করে আছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, ‘তিস্তা পানি বৃদ্ধিতে আমার ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারী ভাবে পরিবার গুলোর তালিকা করেছি এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ দিতে পারিনি।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বের্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রসাশক আবু জাফর জানান, ‘পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বানভাসী মানুষদের মাঝে দ্রুত বিতরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য