ইতালিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে শিশুভাতা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। দেশটিতে করোনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হওয়ায় ভবিষ্যতে দেশটিতে জনসংখ্যা সংকট দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা। আর এসব কথা চিন্তা করেই দেশটির বর্তমান সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতা ও শিশুভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

দেশটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতালিয়ান নারীরা নানা কারণে সন্তান নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। দেশটিতে লিভ টুগেদারের অনুমতি থাকায় বেশীরভাগ ছেলেমেয়েই লিভ টুগেদার করছেন। ফলে ধীরেধীরে তাদের বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আর বিয়ে ছাড়া বাচ্চা নেয়ার অনুমতি না থাকায় বেশীরভাগ মানুষই বাচ্চা নিচ্ছেন না। এতে ভবিষ্যতে দেশটিতে অরিজিনাল ইতালিয়ান নাগরিক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে বলে জানিয়েছেন এসব গবেষকরা।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে বলেন, ‘বর্তমানে বেশীরভাগ ইতালিয়ান দম্পতি অর্থনীতিক সমস্যার কারণে বাচ্চা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাই আমরা এই অর্থনীতিক সমস্যা সমাধানের নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। যাতে করে ভবিষ্যতে এসব দম্পতি বাচ্চা নিতে আগ্রহী হয়’।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে কোন ইতালিয়ান নারী সন্তান প্রসব করলে তাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা হিসেবে পাঁচ হাজার ইউরো প্রদান করা হত। আর দেশটিতে বসবাসরত ভিনদেশী নারীদের ক্ষেত্রে প্রদান করা হত দুহাজার ইউরো। কিন্তু বর্তমানে এই ভাতা আরও বাড়ানো হবে। এছাড়াও কোন পরিবারে আঠেরো বছরের নিচে বাচ্চা থাকলে সেসব পরিবারের জন্য সকল ধরনের বোনাস তিনগুণ বেশি বরাদ্দ করা হবে। আর মাতৃত্বকালীন সময়ে একজন মহিলা সাতমাস ছুটি পাবে। এই সাতমাস ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তার মূল বেতনের ১০০ থেকে ১২০ ভাগ বেতন প্রদান করা হবে। যদি কোন বেকার নারী অন্তঃসত্ত্বা হয় তাহলে তাকে মাতৃত্বকালীন কয়েকটি বোনাস দেয়া হবে’।

এছাড়াও সন্তানের আঠেরো বছর পূর্ণের আগে পর্যন্ত যেখানে প্রতিবছর একহাজার ইউরো দেয়া হত। সেখানে বর্তমান আইনানুযায়ী তিন হাজার ইউরো প্রদান করা হবে। আর প্রতিমাসে এক সন্তানের জন্য প্রদান করা হবে ২৪০ ইউরো, দ্বিতীয় সন্তান থাকলে তার জন্য পরিবারের মূল আয়ের বিশ শতাংশ বোনাস আর তিন বা ততোধিক সন্তান থাকলে তাদের জন্য থাকবে অতিরিক্ত বোনাস। এছাড়াও পরিবারে অধিক সন্তান থাকলে ওই পরিবারকে আয়ের কর অনেক কম নেয়া হবে জানান প্রধানমন্ত্রী কন্তে।

উল্লেখ্য, দেশটির নাগরিক ও বসবাসরত সকল অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের চিকিৎসা শতভাগ ফ্রি। তবুও বাচ্চা নিতে অনেক দম্পতিই অনীহা প্রকাশ করে।

সম্প্রতি আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে ইতালিয়ান শিশুদের চেয়ে অন্যান্য দেশের শিশুদের সংখ্যা অনেক বেশি। এরমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও এক জরিপে দেখা যায়, ২০১৮ সালে দেশটিতে নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করে প্রায় সাড়ে চার লাখ। কিন্তু তার বিপরীতে ওই বছরেই দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেন ছয় লাখ উনচল্লিশ হাজার চার’শ নব্বই জন নাগরিক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য