মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রকে `পর্যদুস্ত করে ফেলেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক ড. রবার্ট রেডফিল্ড।

“ছোট একটি ভাইরাসের কারণে আমাদেরকে সম্ভবত প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে,” মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের জ্বালানি ও বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি একথা বলেছেন।

“ভাইরাস মোকাবেলায় যা করা সম্ভব, তার সেরাটাই করেছি আমরা,” বলেছেন তিনি।

রেডফিল্ড এমন এক সময়ে এসব বলেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের হার ফের বাড়তে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শনাক্তকরণ পরীক্ষা বাড়ার কারণেই অধিক রোগী মিলছে, ব্যাপারটা সেরকম নয়।

“কোনো অঙ্গরাজ্যই ঘরবন্দি থাকার আদেশকে শনাক্তকরণ পরীক্ষা, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে (ভাইরাস মোকাবেলার) একটি কার্যকর জনস্বাস্থ্য মডেলে রূপান্তর করতে পারেনি,” বলেছেন সিডিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. রিচার্ড বেসের।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশটির সংক্রামক রোগ বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচিও।

নতুন প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সামনের কয়েকটা দিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ, মহামারী মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তদন্ত চালানো কংগ্রেসনাল কমিটির এক শুনানিতে মঙ্গলবার তিনি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শুনানিতে ফাউচি ছাড়াও সিডিসি, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রণালয়ের আরও তিন প্রতিনিধির সাক্ষ্য নেয়া হয়।

কয়েকদিন আগে ওকালাহোমার টালসাতে হওয়া এক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কম রাখতে তিনি পরীক্ষা কমাতে বললেও কর্মকর্তারা তার কথা কানে নেয়নি।

মঙ্গলবার শুনানিতে অংশ নেয়া চার কর্মকর্তাই ট্রাম্পের এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনোই তাদেরকে শনাক্তকরণ পরীক্ষা কমাতে বলেননি বলেও জানিয়েছেন তারা।

“আমার জানা মতে, আমাদের কাউকেই পরীক্ষার পরিমাণ কমিয়ে আনতে বলা হয়নি। সত্যিকার অর্থে, আমরা আগের তুলনায় আরও বেশি পরীক্ষা করতে যাচ্ছি,” বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটি অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক ড. ফাউচি।

কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ কোটি শনাক্তকরণ পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

হোয়াইট হাউস বলছে, শনাক্তকরণ পরীক্ষা নিয়ে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ছিল ‘ঠাট্টার ছলে বলা’।

মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টকে ওই ভাষ্যের সঙ্গে দ্বিমত করতে দেখা গেছে; শনাক্তকরণ পরীক্ষা নিয়ে ‘মজা করেননি’ বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।

আরিজোনার ফিনিক্সে মঙ্গলবারের নির্বাচনী কর্মসূচিতে ট্রাম্প বলেছেন, করোনাভাইরাসের ‘উৎপাত দূর হয়ে যাচ্ছে’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এদিনও প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘কুং ফ্লু’ বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প আরিজোনা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই অঙ্গরাজ্যটিতে একদিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আগের রেকর্ড অতিক্রম করে।

অঙ্গরাজ্যটির হাসপাতালগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি শয্যা ব্যবহৃত হচ্ছে জানিয়ে কর্মকর্তারা সামনের দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

মঙ্গলবার কংগ্রেসনাল কমিটির শুনানিতে ফাউচি চলতি বছরের মধ্যে টিকা আবিষ্কারের বিষয়ে ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করেছেন।

প্রতিষেধক না পাওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সাবধান হতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

“প্ল্যান ‘এ’ হচ্ছে- ভিড়ের মধ্যে যাবেন না। প্ল্যান ‘বি’ হচ্ছে’- যদি যানও, তাহলে অবশ্যই মাস্ক পরে যাবেন,” বলেছেন ফাউচি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য