পাঁচ বছর আগে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র মাফ চাইলে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলে তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি একথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে কোনো সমস্যা নেই আমাদের। কিন্তু কেবল তখনই আলোচনা হবে, যখন ওয়াশিংটন পরমাণু চুক্তিতে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবে, ২০১৫-র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাইবে ও তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দেবে।

“কিন্তু আমরা জানি, তেহরানকে আলোচনায় বসতে জানানো আহ্বানগুলো কেবলমাত্র শব্দ ও মিথ্যাচার” বলেছেন রুহানি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির উপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ ও জার্মানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল তেহরান।

চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার রোধ এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কিছু না থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে মিত্র দেশগুলোর পরামর্শ উপেক্ষা করেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

তিনি তেহরানের উপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানি আটকাতে একের পর এক পদক্ষেপও নেন।

ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরান-ওয়াশিংটনের উত্তেজনা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাশেম সোলেমানির মৃত্যুর ঘটনা দুই দেশকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তেও ঠেলে দিয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য