কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলাধীন বন্দবেড় ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকা হতে ফুলুয়ারচর নৌকা ঘাট পযর্ন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর (পূর্বপাড়) স্থায়ী নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ ৯টি প্যাকেজে মধ্যে পাঁচটি চলমান, প্রক্রিয়াধীন আছে চারটি।এর মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাজ মঞ্জিলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঁচ হাজার মিটার তীর সংরক্ষণের কাজে প্রতিষ্ঠানটি জিও ব্যাগে বালুর বদলে মাটি ভরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে এলাকাবাসী কাজ আটকে দেয়।

রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জিও ব্যাগে বালুর পরিবর্তে কাদা, দোআঁশমাটি দিয়ে ভরাট করার সময় এলাকাবাসী বাঁধা দেয়। এক পযার্য়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনরে মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে চাপের মুখে জিও ব্যাগ ভরার কাজ বন্ধ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুড়িগ্রাম।

জিও ব্যাগ ভরাট কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জহুরুল হক, ছাইদুর, হাবিল, বাছের, রাশেদুল বলেন, আমরা শ্রমিকের কাজ করি। ঠিকাদারের লোক মান্নান ও দুলুকে জানিয়েছিল বালু নেই। তারা বলেছে, তোমারা যা আছে মাটি দিয়েই বস্তা ভরাট করো, তোমাদের কাজ বস্তা ভরাট করা। আমরা ৮৫ জন শ্রমিক কাদামাটি মেশানো বালু দিয়ে বারোশ বস্তা ভরাট করছি। এলাকাবাসী বাধা দিলে আমরা কাজ বন্ধ করেছি। বালু আনলে কাজ করবো।

বাগুয়ারচর গ্রামের হেলাল, রফিক, রুবেল বলেন, এই ঠিকাদারে সাইডে এর আগেও ৪০ হাজার জিও ব্যাগ চিকন বালি, কাদামাটি মিশ্র মাটি ভরাট করে নদীতে ফেলছে। এখন এলাকাবাসী বাঁধার কারণে কাজ বন্ধ করছে।

কথা হয় বালু সরবরাহকারী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি বালু দেই আর কাদা মাটি দেই ,ঠিকাদার বুঝবে আমি বুঝবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডে ওয়ার্ক সহকারী মাইদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের ম্যানেজার দুলু ও মান্নানকে আমি বার বার বলেছি কাদামাটি মিশ্র বালু চলবেনা। জিও ব্যাগ ভরাট করা নিষেধ করা হয়েছে, এই সাইডের অফিসার এসে বালু বাতিল করছে। কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের উপ-সহকারী চঞ্চল শর্মা বলেন, আমি গতদিন ওই সাইডে গিয়ে চিকন বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাট করা বন্ধ করে দিয়েছি। তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছি এই বালু দিয়ে কাজ চলবেনা।

ঠিকাদার বিপ্লব ব্যানার্জী বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বালু পাওয়া যায় না। যে সমস্ত বস্তা মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে ভরাট করছে তা আনলোড করে মোটা বালু দিয়ে বস্তা ভরাট করা হবে। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি কাজে যাতে আর কোনো ভুল না হয়।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। আপাতত কাজ বন্ধ থাকবে। এসও সাইডে গিয়ে বালু দেখে ভরাট জিও ব্যাগ আনলোড করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য