করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেল।

শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ হাজার ৪১৩ জন নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এটি একদিনে নতুন আক্রান্ত শনাক্তের নয়া রেকর্ড। এর আগে ভারতে একদিনে এত রোগী শনাক্ত হয়নি। নতুন এ রোগীদের নিয়ে দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের মোট সংখ্যা চার লাখ ১০ হাজার ৪৬১ জনে দাঁড়িয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি ভারতে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তারপর ১১০ দিনের মধ্যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়ালেও পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংখ্যাটি দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর তিন লাখ ছাড়াতে সময় লাগে মাত্র ১০ দিন এবং চার লাখ ছাড়াতে লাগে আরও কম, মাত্র আট দিন।

প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় ১৪৩ দিনের মধ্যে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেল।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটিতে লকডাউন প্রায় তুলে নেয়া হয়েছে। লোকাল ট্রেন, মেট্রো ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ফের পূর্ণদ্যোমে শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়ার পরই ভারতের অবস্থান। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

একদিনে দেশটিতে আরও ৩০৬ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ হাজার ১৫৪-তে দাঁড়িয়েছে।

এক লাখ ২৮ হাজার ২০৫ জন রোগী নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৮৪ জনের।

আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে তামিলনাডু। এ রাজ্যে শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৮৪৫ জন। ৫৬ হাজার ৭৪৬ জন আক্রান্ত নিয়ে তামিলনাডুকে ছুঁইছুঁই করছে দিল্লি। তালিকায় এরপরে থাকা গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৮০ জন।

মহারাষ্ট্র, তামিলনাডু, দিল্লি ও গুজরাট- ভারতের এই চার রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখেরও বেশি, যা দেশের মোট সংখ্যার ৬৫ শতাংশ।

মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দিল্লি। এখানে মোট দুই হাজার ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটে এক হাজার ৬৩৮ জন ও তামিলনাডুতে মৃত্যু হয়েছে ৭০৪ জনের।

পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৩১ জন, এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫৪০ জনের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য