হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্তে গত ১৫ জুন ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘাত নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেছে চীন। ভারতীয় বাহিনী ভেবেচিন্তে উসকানি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিজিয়ান ঝাও। একাধিক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, চীনের সীমানায় ঢুকে পড়ে ভারতীয় বাহিনী হামলা চালালে তীব্র শারিরীক সংঘাত শুরু হয়। তবে চীনা হতাহতের বিবরণ সামনে আনেননি তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এক মাসেরও বেশি সময় উত্তেজনার পর গালওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে ভারতের ২০ সেনা সদস্য নিহত হয়। উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছে ভারত। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, কোনও বিদেশি সেনা ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেনি এবং কোনও ভূখন্ডও হারাতে হয়নি। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হলেও ভারত সীমান্ত রক্ষা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শনিবার টুইট বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিজিয়ান ঝাও দাবি করেন, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশির মধ্যে দুর্বলভাবে চিহ্নিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) চীনা অংশে অবস্থিত গালওয়ান উপত্যকা। তিনি বলেন, এলএসি’র চীনা অংশে ভারতীয় অবকাঠামো নির্মিত হলে মে মাসে দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় ঐকমত হয়। সেই অনুযায়ী সম্প্রতি ভারত ওই অবকাঠামো এবং নিজ বাহিনী সরিয়ে নিলে উত্তেজনা কমে আসতে শুরু করে। আর সেই মুহূর্তে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।

লিজিয়ান ঝাও বলেন, ‘গালওয়ান উপত্যকার পরিস্থিতি যখন ইতোমধ্যে নিরসন হতে শুরু করেছে তখন ভেবেচিন্তে উসকানি দেওয়ার জন্য গত ১৫ জুন ভারতীয় বাহিনী আরও একবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে।’ তিনি বলেন, ‘এমনকি আলোচনার জন্য সেখানে যাওয়া চীনা কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্যদের ওপর সহিংস হামলা চালায় ভারতের সম্মুখভাগে থাকা সেনারা, এভাবেই তীব্র শারিরীক সংঘাত শুরু হয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।’ চীনা মুখপাত্রের অভিযোগ এপ্রিল মাস থেকেই গালওয়ান উপত্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করছে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতার খাড়া ভূখণ্ডের ঢালে দুই দেশের সেনাবাহিনী সংঘাতে জড়ালে বেশ কিছু সেনা দ্রুত প্রবাহিত গালওয়ান নদীর হিমাঙ্কের নিচে থাকা পানিতে পড়ে যায়। এতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের পাশাপাশি ৭৬ জন আহত হয়। চীনা হতাহতের পরিমাণ নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি বেইজিং।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য