‘কেউ আমাদের সীমায় ঢোকেনি। কেউ আমাদের সীমায় নেই। আমাদের ভূমি কেউ কখনই দখল করতে পারেনি।’- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এমন এক বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে আজ (২০ জুন)। শুক্রবার (১৯ জুন) লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) এর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদী যেখানে তিনি বলেন, ‘যে কোন নিয়ম লঙ্ঘন হলে তার দৃঢ় জবাব দিতে প্রস্তুত আছে ভারতীয় বাহিনী।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর ১৯ তারিখে দেয়া নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় জানায়, ১৫ জুন এলএসি অঞ্চলের উত্তেজনা এবং গালওয়ান সীমান্তে সংঘর্ষের মূল কারণ চীন তার সীমানা অতিক্রম করে কাজ করার চেষ্টা করে এবং তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললেও তারা সেটি না শুনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী বেশ স্পষ্ট করেই বলেছেন এলএসি অঞ্চলে হওয়া যে কোন নিয়মের লঙ্ঘনের বিষয়ে বেশ দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে ভারত। এর সঙ্গে বেশ স্পষ্ট করে তিনি জানান, পূর্বে যেই ভুল হয়েছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বেশ সতর্কতার সঙ্গে ভারত সংঘর্ষ প্রতিহত করবে।

ভারতের সর্বদলীয় এই কনফারেন্সে জানানো হয়, এলএসি অঞ্চলে চীন তার আরো সৈন্য একত্রিত করেছে এবং ভারতও নিজেদের সীমানা রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর সে কারণেই পূর্বে যেই ভুল ছিলো তা যেনো না হয় সে কারণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানায়, মূলত ১৫ জুন গালওয়ান সীমান্তে হওয়া সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদি এমন মন্তব্য করেন বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৫ জুন হওয়া হামলায় ভারতের সীমান্তে কেউ প্রবেশ করেনি বলতে নরেন্দ্র মোদি বুঝিয়েছেন, ভারতের সেনা বাহিনীর দক্ষতা ও বীর ভূমিকার কারণে দেশের সীমান্তে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। ১৬ বিহার রেজিমেন্টের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে চীন সেখানে কোন অবকাঠামো তৈরি করতে পারেনি এবং এলএসি অঞ্চলের নিয়ম ভঙ্গ করে অবস্থান করতে পারেনি।

এই মন্তব্যের পরেই নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বিধি লঙ্ঘন করে যারাই আমাদের সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করেছে তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে আমাদের মাটির ছেলেরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, সীমান্ত রক্ষার জন্য সবকিছু করছে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী।’

ভারতের সর্বদলীয় বৈঠকের আলোচনায় বিগত ৬০ বছর ধরে কিভাবে নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করা চলেছে তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, সরকার এলএসি অঞ্চলের সীমানা কোন পরিবর্তনের বিষয় অনুমোদন করবে না।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরো জানায়, ‘যখন সীমান্ত রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে আমাদের সৈন্যরা, তখন এমন একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়ে তাদের নৈতিকভাবে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে।’ কিন্তু এ ধরণের ইচ্ছাকৃত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ভারতের মানুষকে বিভক্ত করা যাবে না বলেও জানানো হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য