আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় যাত্রীবাহী বাসে পুলিশের চাঁদা দাবীসহ পলাশবাড়ীতে সড়ক অবরোধ এবং উত্তেজিত শ্রমিকদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশের প্রতিবাদে গাইবান্ধা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বানে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরের মেনহাজ উদ্দিন সুপার মার্কেটে অবস্থিত শ্রমজীবি সংগঠন কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুস ছোবাহান সরকার বিচ্চু।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত বুধবার রাত ১০টায় গাইবান্ধা থেকে চট্টগ্রামগামী জান্নাত পরিবহনের একটি বাস ২৬জন যাত্রী নিয়ে তুলশীঘাট নামক স্থানে পৌঁছিলে, গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে বাসটি আটক করে। এসময় পুলিশ গাড়ীর কাগজপত্র যাচাই করে সঠিকতা থাকলেও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মিথ্যা অভিযোগ এনে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে গাড়ীটি আটক রাখে।

এ খবর দ্রুত পলাশবাড়ীতে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা সড়ক অবরোধ করে। পরে পলাশবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদার রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের শান্ত না করে মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

এসময় শ্রমিকদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। শ্রমিকদের উত্তেজনা দেখে থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদার রহমান প্রকাশ্যে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। ওসির গানম্যান আব্দুল মমিন শ্রমিক নেতাদের উপর অস্ত্র উচিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে লাঠিচার্জের চেষ্টা করে।

এ প্রসঙ্গে শ্রমিক নেতারা বলেন, ওসি শ্রমিকদের শান্ত না করে প্রকাশ্যে গুলি করে মারার নির্দেশ দেয় কিভাবে? তাই তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে পলাশবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদার রহমানের শাস্তিমূলক বদলী দাবী করে। অন্যথায় গাইবান্ধা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন মহাসড়ক অবরোধসহ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের আল্টিমেটাম দেয়।

শেষে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তেক্ষেপ কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লবসহ শ্রমিক সংগঠনটির সকল নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য