আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইউনুস আলী তার বাসায় কর্মরত গৃহ পরিচারিকাকে ধর্ষণের ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন।

বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়ার বাসায় সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাতকালে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এ মিথ্যা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এর প্রতিকার দাবি করেন। তিনি সাংবাদিকদের সম্মুখে এক লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দরিদ্র পরিবারের কিশোরী মেয়েটি তাদের গ্রাম সম্পর্কে ভাতিজী হয়। তাকে বাড়িতে রেখে পরবর্তীতে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে এই শর্তে আড়াই বছর আগে গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়ায় ইউনুস আলীর বাসায় নিয়ে আসা হয়। কথা ছিল মেয়েটি ওই বাড়িতে ৫ বছর থাকলে তার বিয়ের খরচের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু সম্প্রতি ওই মেয়েটির আচরণে কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলে তার মোবাইল ফোন চেক করে তার দুলা ভাই এবং চাচাত ভাইয়ের সাথে অশ্লীল কথাবার্তার রেকর্ডিং এবং ম্যাসেজ পাওয়া যায়।

সেই অনুযায়ি গত ১৪মে তাকে তার বাবা মুকুল মিস্ত্রির কাছে সুন্দরগঞ্জের নওহাটি চাচিয়া গ্রামের বাড়িতে রেখে আসা হয় এবং তার পরিবারকে বলা হয় মেয়েটির উচ্ছৃংখল আচরণের কারণে তাকে ইউনুস আলীর বাড়িতে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সময় মেয়েটির বাবা ইউনুস আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীনকে জানান, তিনি তার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করবেন। সেসময় যেন তাকে বিয়ের খরচের টাকা দেয়া হয়। এতে শিক্ষক ইউনুস আলী সম্মত হলে মেয়েটির পরিবার-পরিজন তাকে নিজ বাড়িতেই রেখে দেন।

এই ঘটনার পর কোন কারণ ছাড়াই গত ৪ জুন এলাকার কুচক্রিমহলের প্ররোচনায় অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে ওই মেয়ে এবং তার পরিবারকে ফুসলিয়ে মেয়েটির সাথে ইউনুস আলীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং মেয়েটি গর্ভবর্তী এ ধরণের মিথ্যা কথা বলে তারা ইউনুস আলীর কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে এবং এই টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্থানীয় শফিকুল ইসলাম অবুঝ নামে এক যুবক মেয়েটির পরিবারের পক্ষে সাংবাদিকদের মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট তথ্য প্রদান করে। মেয়েটির বাবা-মা বেঁচে থাকা সত্ত্বেও পরে এই মিথ্যা ঘটনায় মেয়েটির সৎ দাদি মালেকা বেওয়াকে দিয়ে সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মিমাংসার জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করে।

রোকসানা পারভীন আরও উল্লেখ করেন, এ সমস্ত টাকা চাওয়ার দাবি, মেয়েটির বিভিন্ন সময়ের অশ্লীল কথাবার্তা, মোবাইলের ম্যাসেজ সহ সব ওই কিশোরীর মোবাইলে রেকর্ড করে রাখা হয়েছে। যা প্রমাণ করবে এই ঘটনাটি মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য