সীমান্ত সংঘাতের মধ্যে চীনকে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে ভারতে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাদের হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে চীন বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। এসময় চীনা পতাকা পোড়ানোর পাশাপাশি সেদেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

আজ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এরইমধ্যে সেনা, বিমান এবং নৌবাহিনীকে ‘এক্সট্রিম’অ্যালার্ট দিয়ে যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। ওই অ্যালার্টের পরে শুধু গোলযোগপূর্ণ লাদাখই নয়, উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশসহ প্রত্যেকটি সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের চামোলি, যোশীমঠ, উত্তরকাশী থেকে আধাসামরিক বাহিনী ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশকে সীমান্তের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভারতের আশঙ্কা, চীন এবং পাকিস্তান একযোগে দুই সীমান্তে গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে। সেজন্য জম্মু, শ্রীনগর, কারগিল থেকে সেনাবাহিনীকে ফরওয়ার্ড মুভমেন্টের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঠানকোট এবং গোয়ালিয়রের এয়ারফোর্সের এয়ারবেসকে সুখোই এমকেআই এবং তেজস ইসিএ হাই অলটিচিউড ফাইটার জেট নিয়ে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে গতকাল (বুধবার) সকালে ভারতীয় নৌবাহিনীর একাধিক রণতরী ভারত মহাসাগরের মালাক্কা চ্যানেলের দিকে এগিয়েছে বলে আজ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে।

এদিকে, দিল্লির ডিফেন্স কলোনির লোকেরা চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আওয়াজ তুলেছে। তারা চীনে তৈরি পণ্য বর্জনের আবেদন করেছে। চীনকে আর্থিকভাবে কোমর ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চীনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বুধবার চীনা দূতাবাসের সামনে যুব কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এসময় পুলিশ তাঁদেরকে আটক করে। গুজরাটে চীনের বিরুদ্ধে মানুষজন সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ সময় তারা চীনের তৈরি ইলেকট্রনিক পণ্য ভাঙচুর করে চীনা পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

আহমেদাবাদ, ভদোদরা ও সুরাটে ক্ষুব্ধ জনতা চীনা পতাকা ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি পুড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা গালওয়ান উপত্যকায় সেনারা যে আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে তা যাতে ব্যর্থ না হয় কেন্দ্রীয় মোদি সরকারকে তা নিশ্চিত করতে বলেছে।

জম্মুর বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদী জনতা চীনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করে চীনা পণ্য বয়কটের পাশাপাশি চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা চীনা পতাকা ও কুশপুতুল পুড়িয়েছে। তারা এসময় চীনের বিভিন্ন পণ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা চীনের পিএলএ বাহিনীর আচরণের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে স্লোগান দেয়।

এদিকে, চীনা পণ্য বয়কট করলে উভয় দেশের বিশাল ক্ষতি হবে বলে চীনের সরকারি গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে মন্তব্য করা হয়েছে। -পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য