ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলাবাড়ীতে নমুনা পরিক্ষার ফলাফল আসতে বিলম্ব হওয়ায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে ঘরছে পরিক্ষার জন্য নমুনা দেয়া উপসর্গ জনিত ব্যাক্তিরা। এতেকরে দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি।

খোজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত সাত জুন নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করার পর, গত ১৪জুন সেই নমুনা পরিক্ষার ফলাফল আসে, এতে দেখা যায় দুই জন করোনায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের প্রতিবেশিরা জানায়, ফলাফল না আসা প্রর্যন্ত, সাত দিন ওই আক্রান্ত ব্যাক্তিরা প্রকাশ্যে লোকালয়ে ঘুরতে দেখা গেছে।

এদিকে সেচ্ছায় পরিক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করলেও সামাজ্যিক ভাবে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে, এই জন্য উপসর্গ দেখা দিলেও প্রকাশ করতে চায় না অনেকে। পুর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের সমাজ কর্মি ডাক্তার আহাদুজ্জামান চৌধুরী সোহাগ বলেন, তার এক প্রতিবেশি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায়, তিনি সেচ্ছায় নমুনা পরিক্ষা করান, অথচ সেই পরিক্ষার ফলাফল না আসা প্রর্যন্ত তাকে না না বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, উপসর্গ দেখা দেয়া ব্যাক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়, সেখান থেকে নমুনা পরিক্ষার ফলাফল আসতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগে।
এদিকে নমুনা দেয়ার পরেও, সময়মত পরিক্ষার ফলাফল না আসায়, করেনা আক্রান্ত ব্যাক্তিরা উপসর্গ নিয়েই হাট-বাজার লোকালযে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এতেকরে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসীক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার এনায়েতুল্যা নাজিম এই প্রতিবেদককে বলেন, নমুনা পরিক্ষার ফলাফল না আসা প্রর্যন্ত কাউকে করোনা রোগী বলা যাবেনা, তবে নমুনা সংগ্রহনের সময় নমুনা প্রদানকারীদের হোমকোয়রেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

ডাক্তার এনায়েতুল্যা নাজিম বলেন গত ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে সাত জুন প্রর্যন্ত সংগ্রহ করা ২৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা করা হয়েছে, এদের মধ্যে ১৪জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে বলেন গত সাত জুনের সংগ্রহ কৃত নমুনার ফলাফল গত ১৪জুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছে। গত আট জুন থেকে গতকাল ১৬জুন প্রর্যন্ত সংগ্রহ কৃত ৫৬ জনের নমুনার ফলাফল গতকাল ১৭জুন প্রর্যন্ত আসেনি। তিনি জানায় গতকাল ১৭জুনে আরো ৫জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই বিষযে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দিনাজপুরসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নিলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় সংগ্রহকৃত নমুনা পরিক্ষা করা হয়, এই জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৪শ থেকে ১৫শ নমুনা এসে জমা হয়, কিন্তু প্রতিদিন ১৮৮টির বেশি নমুনা পরিক্ষা করা সম্ভাব হয়না, যারফলে নমুনার ফলাফল পেতে একটু সময় লাগে। এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন স্বীকার করেন জনবল ও উপকরণ সংকট থাকায় সংগ্রহকৃত সকল নমুনা পরিক্ষা করা সম্ভাব হয়না।

এদিকে উপসর্গ জনিত ব্যাক্তিদের হোমকোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।সমাজ কর্মি হিসেবে পরিচিত পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার ওয়াজেদুর রহমান বাবলু বলেন, উপসর্গ জনিতদের হোমকোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের মধ্যে জনে জনে ছড়িয়ে পড়বে, এই জন্য তিনি উপসর্গ জনিতদের হোমকোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার দাবী জানান।

উপজেলার প্রবীন চিকিৎসক ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর আবাসীক মেডেকেল অফিসার ডাক্তার রেজাউলর আলম লাবু বলেন, এক সময় ভাইরাটি কিছু চিহ্নিত এলাকায় ছিল, এখন প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, তাই সকলকে নিজে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে, একই সাথে উপসর্গ জনিত ব্যাক্তিদের হোমকোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। এই জন্য তিনি সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য