দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের খানসামায় দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে দুঃখ- কষ্টের মাঝে দুই ভ্যানচালকের মেয়ে সফলতা অর্জন করেন। তারা হলেন লিজা আক্তার ও আয়েশা খাতুন। তারা উপজেলার গোয়ালডিহি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এবার এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ হতে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে জিপিএ ৫ অর্জন করেন। তারা উভয়ে একই বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতেও জিপিএ ৫ অর্জন করে।

উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের লিজা আক্তারের বাবা আতর আলী একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসার চালানো হিমসিম খেতে হয় তার বাবার। এদিকে বাবার উপার্জনে দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হওয়ায় মা লিপি বেগম অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে কোন ঘাটতি রাখেন নি। তার বাবার ইচ্ছে মেয়ে লেখাপড়া করিয়ে একজন ডাক্তার বানানো। সেই লক্ষ্য নিয়েই মেয়ে লিজা আক্তার সাফল্যের সাথে একটার পর একটা সিড়ি অতিক্রম করছেন।

এ দিকে মারগাঁও গ্রামের আয়েশা খাতুনের বাবা সোলায়মান আলী একজন ভ্যানচালক এবং মা মমতা বেগম গৃহিনী। ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি করে তার বড় বোন সাবরিনা আক্তারকে রংপুর প্রাইম মেডিকেলে নার্সিং-এ লেখাপড়া করে বর্তমানে ওখানেই নার্সিং-এ চাকুরি করেন। আয়েশা খাতুন যখন ছোট ছিল তখন তাকে তার বাবা এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসককে পরামর্শ ফি একশত টাকা কম দেওয়ায় সেই চিকিৎসক অনেক কড়া কথা বলেছিল।

সেই থেকেই তার বাবার ইচ্ছে ও চেষ্টা অনুযায়ী বড় মেয়েকে নার্সিং-এ ও ছোট মেয়ে আয়েশা খাতুনকে মেডিকেলে পড়ানো। বাবার কাছে সেই কথা গুলো শুনে মেয়ে আয়েশা খাতুন ছোটবেলা হতেই পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিলেন। তার ইচ্ছে সে একজন ডাক্তার হয়ে গরীব ও সমাজের অসহায়-দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।

এ বিষয়ে গোয়ালডিহি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, তারা দু’জনই লেখাপড়ায় খুব মনোযোগী ছিলেন। তাদের বাবা ভ্যানচালক হওয়া সত্বেও নিয়মিত মেয়েদের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেন সাথে যোগাযোগ রাখতেন। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার এ বিদ্যালয় হতে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৪৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ৪০ জন কৃতকার্য হন এবং ৩ জন জিপিএ ৫ অর্জন করেন। তাদের জন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য