নিজেদের ‘করোনাভাইরাস মুক্ত’ দেশ দাবি করে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার কয়েকদিন পর কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত দুই রোগীকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

আক্রান্ত দুই নারীই সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে এসে আইসোলেশনে আছেন, বলেছে তারা।

এর ফলে টানা ২৪ দিনের বিরতি শেষে নিউ জিল্যান্ডে নতুন কারও দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি মিলল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নতুন সংক্রমণের এ তথ্যকে দেশটির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নতুন কিংবা চিকিৎসাধীন কোনো কোভিড-১৯ রোগী না থাকায় গত সপ্তাহেই সীমান্ত বাদে দেশের ভেতরকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে নিউ জিল্যান্ড মহামারী পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছিল।

প্রবাসীরা ফিরলে ভবিষ্যতে নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হতে পারে বলে সে সময়ই নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা অ’ডুর্ন দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। প্রবাসীদের পাশাপাশি বিশেষ বিবেচনায় অন্য কিছু লোককেও নিউ জিল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা দুই নারীর বয়স ৩০ ও ৪০ এর ঘরে। মৃতপ্রায় এক আত্মীয়কে দেখতে তাদেরকে অকল্যান্ড থেকে ওয়েলিংটনে যাওয়ার অনুমতিও দেয়া হয় বলে নিউ জিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অ্যাশলে ব্লুমফিল্ড জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য থেকে দোহা ও ব্রিসবেন হয়ে গত ৭ জুন এ দুই নারী নিউ জিল্যান্ড নামেন। এরপর থেকে তারা অকল্যান্ডে আইসোলেশনে ছিলেন।

“মৃতপ্রায় আত্মীয়কে দেখতে তাদেরকে আইসোলেশন স্থাপনা থেকে বের হওয়ার বিশেষ অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তারা দুজন এখন স্বেচ্ছা-আইসোলশনে আছেন,” সংবাদ সম্মেলনের বলেছেন ব্লুমফিল্ড।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা এ দুই নারীসহ নিউ জিল্যান্ডে এখন নতুন করোনাভাইরাসে শনাক্ত আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৫০৬ জনে। দেশটিতে কোভিড-১৯ এ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

৫০ লাখ জনগোষ্ঠীর নিউ জিল্যান্ড করোনাভাইরাসজনিত সংকটকে প্রায় সামাল দিতে সক্ষম হলেও ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোকে এখনও কোভিড-১৯ মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এবং জরুরি কর্মী ছাড়া সবাইকে ঘরে ঢুকিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে নিউ জিল্যান্ড সংক্রমণ প্রতিরোধে সফলতা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য