কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভকারীদের রোষ থেকে বাদ যায়নি আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মূর্তিও। আর বিক্ষোভের জেরে খোদ হোয়াইট হাউজেই মাটির তলায় বাংকারে আশ্রয় নিয়ে শিরোনাম হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসবের ধারাবাহিকতায় এবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল শহরের ক্যাপিটল হিল এলাকার দখল নিয়েছে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এক সপ্তাহ ধরে নিজেদের দখলে থাকা ওই এলাকাকে ইতোমধ্যে মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে তারা। ব্যারিকেড দিয়ে লিখে দেওয়া হয়েছে, ‘পিপলস রিপাবলিক অব ক্যাপিটল হিল’।

এর আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দিনের মুখোমুখি অবস্থানের এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার চলে যাওয়ার পর সেখানে পুলিশকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। স্প্রে পেইন্ট দিয়ে পুলিশ ভবনে লিখে দেওয়া হয়, সিয়াটল পিপলস ডিপার্টমেন্ট। ভবনটির দখল নিয়ে সংলগ্ন ছয়টি ব্লক নিয়েই এই মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ক্যাপিটল হিল অটোনমাস জোন বা চ্যাজ।

সিএনএন জানিয়েছে, ঘোষিত মুক্তাঞ্চলে এখন যতটা না বিক্ষোভপূর্ণ তার চেয়ে বেশি উৎসবমুখর। লোকজন উল্লাস করছে। কেউ হয়তো মেডিটেশন করছে আর কেউবা ব্যস্ত চিত্রাঙ্কনে। অন্যরা ভাষণ শুনছে। সবার জন্য গ্রানোলা বার, পানি, টয়লেট পেপার ও টুথপেস্ট মজুত করা হয়েছে।

কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন এই জনসমাবেশে যে উৎসবের আমেজ তাতে করে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার-এর আবেদন মলিন হয়ে পড়তে পারে। কিছু অংশগ্রহণকারী একে পর্যটন আকর্ষণ হিসাবেও অভিহিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা হয় সিএনএন-এর। তিনি বলেন, আমরা কেবল এটা নিশ্চিত করছি যে, গায়ের রঙ বা বর্ণের ভিত্তিতে মানুষের বিরুদ্ধে কোনও হিংস্রতা হতে পারে না। এজন্যই আমাদের এখানে সমবেত হওয়া।

জওয়ান ক্যাম্পবেল বলেন, লোকজনের এই সমবেত হওয়ার মধ্যে তিনি একতা দেখতে পাচ্ছেন। বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ অভিহিত করে তিনি সাম্য প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।

সিএনএন জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি না থাকলেও কিছু লোকজন এটিও বহন করছিল। রাজ সিমন নামের একজন আন্দোলনকারী জানান, হাতের বন্দুকের বাইরেও তার কাছে বাড়তি বারুদ রাখা আছে। তবে এটা পুলিশের জন্য নয়।

রাজ সিমন বলেন, ‘আমি একজন আমেরিকান নাগরিক। আমার যুদ্ধ পুলিশের সঙ্গে নয়। এ লড়াই সিস্টেম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে, জবাবদিহিতার অভাবের সঙ্গে।’

সিএনএন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ।

শিল্পী অ্যাডাম ওয়ান বলেন, ‘এটি সবচেয়ে সুন্দর জিনিস। আমি খুব আশাবাদী। আমি বিশ্বজুড়ে প্রচুর উৎসবে গিয়েছি এবং সেসব উৎসবে আমি যা দেখেছি তার সঙ্গে এখানকার খুব মিল রয়েছে।

দুই ছেলেকে নিয়ে বিক্ষোভস্থলে এসেছিলেন মেগান জনসন। তিনি বলেন, ‘এখানে যা ঘটছে দৃশ্যত এটি প্রতিবাদের একটি দুর্দান্ত উপায়। এটি আমাদের ইতিহাসের খুব বিপ্লবী একটি সময়। আমার বাচ্চাদের এটা দেখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’ সূত্র: সিএনএন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য