দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) চাঞ্চল্যকর ২ শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজব ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে দিনাজপুর আমলী আদালত-১ (সদর) এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসাইন সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও কোতয়ালী থানা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই ২ নেতাকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

এর আগে সিআইডি’র দিনাজপুর জেলা পুলিশ পরিদর্শক রমজান আলী তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। এছাড়াও কোতয়ালী পুলিশ তাদেরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২টায় দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকায় নিজ মালিকানাধীন হোটেল আফিয়া ইন্টারন্যাশনাল থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব ও বিকেল ৪টায় শহরের সুইহারী আশ্রম পাড়ার নিজ বাসা থেকে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে আটক করা হয়।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মুক্তির দাবীতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ঘেরাও করে। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক রজবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রকে হত্যা ও বোচাগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। আর সুজনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও জমিদখলসহ ৫টি মামলা রয়েছে। হাবিপ্রবি’র দুই ছাত্রকে হত্যার ঘটনার মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ওই ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে রাত ৮ টার দিকে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি করে এবং ছাত্র-ছাত্রী ও শিকদের মারধর করে।

এর জবাবে অপর একটি গ্রুপ প্রতিরোধ গড়ে তুললে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া শহীদ নুর হোসেন হলে ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত জাকারিয়া দিনাজপুর শহরের গুড়গোলা এলাকার মোস্তাকের ছেলে ও মাহমুদুল হাসান মিল্টন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরী গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে।

খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে দুই নিহত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া ও মাহমুদুল হাসান মিল্টনের বাবা-মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছেলে হারা দুই পরিবারের বাবা-মাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিকভাবে সহায়তাসহ সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য