যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন কানাডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটির আদিবাসী নেতা অ্যালান অ্যাডামের গ্রেফতারের একটি ভিডিও প্রকাশের পর পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন কানাডার নাগরিকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রায় তিন মাস আগে আটক হয়েছিলেন অ্যালান অ্যাডাম। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতারের সময় মারধরের একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শহরের কর্মসূচিতে কানাডীয়রা নিজ দেশের আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধেরও দাবি তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের দাবি তুলছেন।

খবরে বলা হয়েছে, আলবার্টার ফোর্ট ম্যাকমারিতে ১০ মার্চ রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) এক সদস্য আথাবাস্কা চিপেওয়ান আদিবাসী সংগঠন ফার্স্ট নেশনের প্রধান অ্যালান অ্যাডামকে আটকের সময় তাকে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করেন। পুলিশের গাড়িতে থাকা ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ রেকর্ডটি প্রকাশ করে।

প্রায় ১২ মিনিট দীর্ঘ ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ক্যাসিনোর কার পার্কিংয়ে থাকা অ্যাডামের লরির দিকে এক পুলিশ সদস্য এগিয়ে যাচ্ছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স প্লেট নিয়ে পুলিশ অ্যাডাম ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

অ্যাডামকে বলতে শোনা যায়, ‘আরসিএমপির হয়রানিতে আমি ক্লান্ত’। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা স্ত্রীকে আটক করতে গেলে তাকে ধাক্কা মারেন অ্যাডাম। এসময় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে এলে অ্যাডাম চিৎকার করে বলেন, আমাকে স্পর্শ করবে না। অকস্মাৎ এক পুলিশ সদস্য দৌড়ে এসে অ্যাডামকে মাটিতে ফেলে দেন এবং একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন।

পুলিশ ওই আদিবাসী নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এক সদস্যকে মারধর ও গ্রেফতারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

ভিডিওটি দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন জানিয়ে এ ঘটনার ‘শেষ দেখে ছাড়বেন’ বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

আরসিএমপি কমিশনার ব্রেন্ডা লুকি শুক্রবার এক বিবৃতিতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের মধ্যেও ‘পদ্ধতিগত বর্ণবাদ’ (সিস্টেমিক রেসিজম) আছে বলে স্বীকার করেছেন। বর্ণবাদের শিকার ও আদিবাসীদের সঙ্গে অনেক সময়ই ন্যায্য আচরণ করা হয়নি, বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আলবার্টা আরসিএমপি জানিয়েছে, মারধরের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, তার কার্যক্রমকে ‘যুক্তিসঙ্গত’ বলেও অভিহিত করেছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য