কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখনও বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই ১২ জুন শুক্রবার আটলান্টায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন রেইশার্ড ব্রুকস নামের আরেক কৃষ্ণাঙ্গ। এ ঘটনা যেন বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে। রাজপথে নামে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী। এ সময় অন্তত ৩৬ জনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছেন আন্টলান্টা পুলিশের মুখপাত্র। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

পুলিশের গুলিতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর পর নগরীর পুলিশ প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর কাছে পুলিশের গুলিতে ২৭ বছর বয়সী রাইশার্ড ব্রুকস নিহত হন, এ ঘটনার জেরে শনিবার প্রতিবাদকারীরা আটলান্টার একটি প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেয় ও ফাস্ট ফুড চেইন ওয়েন্ডির ওই রেস্তোরাঁটিতে অগ্নিসংযোগ করে।

রাতে এসব ঘটনা ঘটার আগে বিকালে আটলান্টার মেয়র কেইশা লান্স বটমস জানান, ব্রুকসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নগরীর পুলিশ প্রধান এরিকা শিল্ডস তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি (মেয়র) তা মেনে নিয়েছেন।

পুলিশের গুলিতে ব্রুকসের মৃত্যুর ঘটনা ভিডিওতে ধরা পড়েছে এবং এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে আরও ইন্ধন যোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত ব্রুকসের আইনজীবী জানিয়েছেন, ব্রুকস এক শিশু কন্যার জনক ছিলেন আর শনিবার শিশুটি তার জন্মদিন উদযাপন করছিল।

২৫ মে মিনিয়াপোলিস শহরে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাঁটু চাপায় ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশি বর্বরতা ও বর্ণবাদ বিরোধী তীব্র প্রতিবাদ চলছে। এ পরিস্থিতিতেই আটলান্টায় পুলিশের গুলিতে আরেক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু হল।

স্থানীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ছবিতে ওয়েন্ডির ওই রেস্তোরাঁয় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে, কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনো দমকল কর্মীকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কে গিয়ে হাজির হয়, সেখানে পুলিশও অবস্থান করছে।

“এ ঘটনায় প্রাণঘাতী শক্তির নায্য ব্যবহার হয়েছে বলে আমি মনে করি না এবং ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি,” এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন মেয়র বটমস।

শেষ খবর পর্যন্ত ওই গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, ওয়েন্ডির রেস্তোরাঁর সামনে গাড়ির লাইনে অপেক্ষা করার সময় গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ব্রুকস। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। অ্যালকোহল (অথবা মাদক) পরীক্ষায় উৎরাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রুকসকে হেফাজতে নেয়ার উদ্যোগ নেয় তারা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজনের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁর সামনের রাস্তায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ধস্তাধ্বস্তি করছেন ব্রুকস এরপর মুক্ত হয়ে পার্কিং লট দিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছেন, এ সময় তার হাতে পুলিশের একটি টেইজার গান ছিল বলে মনে হয়েছে।

রেস্তোরাঁর সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা দ্বিতীয় আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দৌঁড়ানো অবস্থায় ঘুরে পেছনে আসা দুই পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে একজনের দিকে সম্ভবত টেইজার গান তাগ করছেন ব্রুকস আর দুই পুলিশের মধ্যে কোনো একজনের গুলিতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছেন।

এখান থেকে ব্রুকসকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সামান্য আঘাত পাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তাকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছ বিবিসি।

ব্রুকসের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেছেন, ব্রুকস পুলিশের বিরুদ্ধে টেইজার গান ব্যবহার করলেও আটলান্টা পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার কোনো অধিকার ছিল না, কারণ টেইজার প্রাণঘাতী অস্ত্র নয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য