ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে করোনা আক্রান্তে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, চারিদিকে আতঙ্ক দেখা দিলেও, নেই সচেতনতা।

উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকার প্রচার প্রচারনা চালালেও, সচেতনাতা দেখা মিলছেনা জনসাধারনের মধ্যে, এতেকরে সংক্রমনের আশঙ্কা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে এই প্রর্যন্ত এই উপজেলায় ১৯জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এই নিয়ে সারা উপজেলায় বেশ আতঙ্ক দেখা দিলেও, সচেতনতা নেই অধিকাংশ জনসাধারনের মধ্যে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে এই উপজেলায় প্রথম করোনায় আক্রন্ত হয়, গত ১২ এপ্রিল উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর মধ্যেপাড়া গ্রামের এনামুল হক (৩০)। এনামুল হক, নারায়নগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায়য চাকুরি করতো, সেখান থেকে বাড়ীতে ফিরে আসার পরে তার শরিরে করোনা শনাক্ত হয়। গত ১৪ মে করোনায় আক্রান্ত হয়, উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের নুর-ই-আলম (৩০), তিনি রাজস্ব্য কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এরপর একেএকে ১৭মে করোনায় আক্রান্ত হয় পুর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের সামসুন্নাহার বেগম(৫৫), আলাদিপুর ইউনিয়নের কুরমুট গ্রামের পরিমল (৩৩)।

২৪মে আক্রান্ত হয় রাঙ্গামাটি গ্রামের আটিস চন্দ্র (৪০) ও পৌর শহরের উত্তর সুজাপুর গ্রামের রোকুনুজ্জামান (২৫)। ২৭ মে আক্রান্ত হয় দৌলতপুর গ্রামের হাসান আলী (৩৩), ২৮মে আক্রান্ত হয় পলিপাড়া গ্রামের মকসুদা বেগম (৩৩),এক জুন আক্রান্ত হয় সৈয়দপুরে অহিদুল হক (৭০) একই এলাকার উম্মে হানী (৫০)। ৩জুন আক্রান্ত হয় কুশলপুর গ্রামের পারুল বেগম (৩৫), ৪জুন আক্রান্ত হয় পৌর শহরের কাটাবাড়ী গ্রামের সাহাবান আলী (৬০) ও ৬জুন আক্রান্ত হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রেজাউল করিম (৩০) ও তার স্ত্রী মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোছাঃ নিশাত শালসাবীল (২৫)।

এছাড়ায় ফুলবাড়ী উপজেলার বাসীন্দা নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী নুরুল ইসলাম, বিরামপুর উপজেলায় কর্মরত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদুল ইসলাম ও দিনাজপুর সদর উপজেলায় কর্মরত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী সাজেদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলায় নিজ বাড়ীতে আসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসানুল হোসেন বলেন করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে তিন জন সুস্থ্য হয়েছে, এরা হলেন এনামুল হক, সামসুন্নাহার ও পরিমল। তাদেরকে ইতোমধ্যে ছুটি দেয়া হয়েছে। অনান্য রোগীরা নিজ নিজ বাড়ীতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায় ফুলবাড়ী পৌর শহর থেকে গ্রামের রাস্তায় মোড়ে মোড়ে মুখে মাস্ক ছাড়ায় চলাফিরা করছে অনেকে। গত দুই মাস চা-ষ্টল গুলো বন্ধ থাকলেও, ঈদের পর থেকে সেই চা-ষ্টল গুলো আবারো চালু হয়েছে। চা-ষ্টলে বসে আবারো আড্ডা জমিয়ে গল্প গুজোবে মত্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। এছাড়া সকাল থেকে বিকাল প্রর্যন্ত শহরের রাস্তা-ঘাট থাকছে যানযটে ভরা। শহরে চলাচলরত অনেকের মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছেনা। অবার অনেকের পকেটে মাস্ক থাকলেও, সেই মাস্ক ব্যবহার করছে সুধুমাত্র প্রশাসনের চোখ আড়াল হওয়া প্রর্যন্থ। এতেকরে সংক্রমনের ঝুঁকি আরো বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসানুল হক বলেন, সংক্রমোন রোধে মাস্ক ব্যবহার একেবারে বাধ্যতা মুলক। তিনি বলেন এই করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সচেনতার বিকল্প নাই। সুধু আইন প্রয়োগ করে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভাব নয়, এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নিজে ও নিজের পরিবারকে এবং অপরকে ও অপরের পরিবারকে নিরাপদ রাখতে সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহবান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের সংক্রমন প্রতিরোধ আইনে মাস্ক ব্যবহার না করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য সকলকে আহবান জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য