মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মধ্যস্থলে অবস্থিত পৌর সবজী পাইকারী বাজার তথা আড়ৎ পূর্বের স্থানে পূনঃস্থাপনের দাবিতে কাফনের কাপড় পড়ে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এবং পৌরসভা ঘেড়াও করে অবস্থান কর্মসূুচী পালন করেছে।

১১ জুন বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কস্থ পাইকারী সবজি বাজারের প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী সবজি বাজার থেকে বিক্ষোভ করে পৌরসভায় গিয়ে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্র্মসূচী পালন করে।

এসময় নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সবজী বাজার আড়তদার সমিতির সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক মাকসুুদ আলম, সহ-সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, সদস্য বাবু ও মাসুদ, ক্ষুদ্র্র আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক নাদিম আক্তার, পিয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির রায়হান, রশিদুল ও জাবেদ আখতার প্রমুখ।

ব্যবসায়ীরা জানান, পৌর পাইকারী কাঁচা বাজারে ৫৫ জন আলু ব্যবসায়ী, ৩০ জন পিয়াজ ব্যবসায়ী, আড়তদারসহ প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের লোকজন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে শহরে লোক সমাগম বন্ধে গত ১৩ এপ্রিল থেকে শহরের উপকন্ঠে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে মিস্ত্রিপাড়া সেপটি ট্যাংক এলাকায় সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়। এসময় আমরা দুটি শর্তে ওই জায়গায় যেতে রাজি হই। শর্তগুলো ছিলো- সেখানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোন ভাড়া নেয়া হবেনা এবং করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আবারও পূর্বের স্থানে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

একই নিয়মে পৌর বাজারের খুুচরা সবজী দোকানদার, মাছ ও মাংসের দোকানগুলোও ফাইভ স্টার মাঠ ও সৈয়দপুুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ৩১ মে লকডাউন শিথিল হওয়ার পর তারাও যথাস্থানে ফিরে এসেছে এবং ব্যবসা করছে। আমরাও পৌর পাইকারী কাঁচা বাজারে দোকানদারী শুরু করেছি। এমতাবস্থায় হঠাৎ গত ৯ জুন পৌরসভার পক্ষ থেকে বাইপাস সড়কের স্থানেই স্থায়ীভাবে পাইকারী সবজী বাজার তথা আড়ত স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে মর্মে মাইকিং করে পাইকারী ব্যবসায়ীদের সেখানে গিয়ে ব্যবসা করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়। এ নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ার করা হয়েছে।

এতে এই ৩ শতাধিক ব্যবসায়ীর মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। শহরের ভিতরের এই আড়ত বন্ধ করে দেয়া হলে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বে বলে মনে করছে। কারণ বাইপাস সড়কের ওইস্থানটি ব্যক্তিমালিকানার। যেখানে ব্যবসা করতে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া ও কমিশন দিতে হবে। এতে স্বাার্র্থান্বেষী একটি মহল উপকৃত হলেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যা বিগত ৩ মাস হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন তারা। তাই তাদের দাবি পৌর সবজী আড়ত পূূর্বের স্থানেই পূূনর্বহাল করা হোক। যা সম্পূর্র্ণরুপে পৌর মেয়রের সিদ্ধান্তের উপর নির্র্ভর করছে।

পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার ব্যবসায়ীদের জানান, সকলের সর্বসম্মতিক্রমেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তার আশ্বাসের প্র্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা অবস্থান কর্মসূচী স্থগিত করে পৌর মেয়রকে তাদের দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদানু করেন। (ছবি আছে)

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য