আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে তেল চুরির অপবাদে নির্যাতিত কিশোর মমিনুল ইসলামকে দেখতে গিয়েছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চাঁদনীবাজার আবাসন এলাকার বাড়িতে যান তিনি। এ সময় এসপি আবিদা সুলতানা নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রীসহ মমিনুলের শারীরিক অসুস্থতার খোঁজ খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

এ ঘটনায় ট্রাক ও ট্যাংকলরি মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী লালসহ তিন কর্মচারী মধু চন্দ্র রায় (৩২), বিমল চন্দ্র রায় (৩৭) ও আব্দুল মান্নান (২২)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মমিনুলকে নির্যাতনের সময় কেউ একজন মোবাইল ফোনে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে। দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নির্দেশে রাতেই মিশনমোড়ের বাসা থেকে লালকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। এরপর লালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্যাতনের শিকার মমিনুল ইসলামকে সদর উপজেলার চাঁদনীবাজার আবাসন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাবার নাম মৃত নুর মোহাম্মদ।

কিশোর নির্যাতনের ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের মিশনমোড় চত্বরে মেসার্স আল মামুন ফার্টিলাইজার ও সীমান্ত আবাসিক হোটেলের মালিক ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী লাল তেল চুরি করার অপরাধে মমিনুল ইসলামকে মারধর করে মাটিতে ফেলে মুখে ও গলায় পা তুলে অমানুষিক নির্যাতন করে। এ সময় তার লোকজনও ওই কিশোরকে মারধর করে। একাধিক মানুষ নীরবে দাঁড়িয়ে ওই দৃশ্য দেখলেও কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। তবে কেউ একজন মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা ফেসবুকে শেয়ার করলে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

ভাইরাল হওয়া দুই মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যবসায়ী আশরাফ আলী লালসহ আরও দুই তিনজন মমিনুলবে বার বার মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর এবং পা দিয়ে মুখ ও গলা চেপে ধরছেন। আত্মরক্ষায় ছেলেটি অনেকের পা জড়িয়ে ধরলেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।

লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মশিউর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে ওসি মাহফুজ আলম স্যারের নেতৃত্বে আমরা রাতেই প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার কিশোর মমিনুল ইসলামকে শনাক্ত করেছি।

মমিনুল ইসলামের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, কাজকর্ম না থাকায় অসুস্থ মায়ের খাবারের জন্য মিশনমোড়ে সীমান্ত হোটেলের সামনে ইজিবাইক থেকে একটি তেলের জারকিন চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে সে। ওই ঘটনায় তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে আশরাফ আলী লাল ও তার সহযোগীরা। এই ঘটনায় কিশোর আমিনুল ইসলাম ৬ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ২/৩ জনের নামে একটি মামলা রুজু করেন। ওই মামলার এজাহারে উল্লিখিত তিন আসামিকে পরে গ্রেফতার করা হয়। বাকি দুই আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন আসামি পলাতক। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, ’এই ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক, পরিচয় দেখে নয় তার অপরাধ বিবেচনা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের হাতে সম্পূর্ণ ভিডিওচিত্রটি আছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দেখে দেখে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য