আনোয়ার হোসেন আকাশ রাণীশংকৈল থেকেঃ মঙ্গলবার(৯জুন) সময় তখন রাত নয়টা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানালো ।সেদিনের করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পাঁচ বছরের শিশু সন্তানসহ মোট চারজন। তবে তিনজনের সন্ধান মিললেও পাঁচ বছরের শিশু সন্তানটিকে মিলছে না।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস শনাক্তের দিন রাতেই। সে নাকি তার মা গামের্ন্টস কর্মীর সাথে ঢাকা হেমায়তপুর কর্মস্থলে চলে গেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউপির ক্ষুদ্র বাশঁবাড়ী গ্রামে।

ঐ গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় আ’লীগ নেতা আব্দুর রশিদ জানান, শিশু বাচ্চাটিসহ তার মা গত ৩ জুন এখানে এসেছিলেন। আমরা স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গিয়ে নমুনা(স্যাম্পল) দেওয়া হয়। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসার দিন মঙ্গলবার(৯জুন) তারা মা ছেলে নাইটকোচে করে।

স্থানীয়দের অগোচরে আবারো ঢাকায় চলে যান বলে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি।স্থানীয়রা আরো জানায়, নুমনা দেওয়ার পরেই তারা মা ছেলে। আত্নীয় স্বজনের বাড়ী। আশ পাশের দোকানে অবাধে চলা ফেরা করেছেন।

এছাড়াও পৌর শহরের সন্ধারই গ্রামের হ্যালিপ্যাড পাড়ার। গামের্ন্টস কর্মি গাজীপুর ফেরত বাইশ বছর বয়সী করোনা শনাক্ত রোগীটিও। তার বাড়ীর আশপাশের বাজারের দোকানগুলোতে বিনা-বাধায় চলা ফেরা করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেরত ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। স্বাস্থ্য বিভাগকে নমুনা দিয়েই অবাধে ঘুরাফেরা করছেন। এছাড়াও তাদের পরিবারের লোকজনও অবাধে ঘুরাফেরা করছেন। এতে করোনা সংক্রমনের
ঝুকি থাকলেও।

এ নিয়ে প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ খালেকুজ্জামান চৌধুরী মঙ্গলবার(৯জুন) মুঠোফোনে জানান,গত ৩ ও ৪ জুনের নমুনা পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে, লেহেম্বা ইউনিয়নের চাপোড় পার্বতীপুর গ্রামের তের বছর বয়সী কিশোর শনাক্ত হয়েছে।

ইতিপূর্বে তার বোন শনাক্ত হয়েছেন।একই ইউনিয়নের কক্সবাজার ফেরত গোগর(দক্ষিণপাড়া)গ্রামের একুশ বছর বয়সী যুবক। এবং ঢাকা হেমায়তপুর ফেরত হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ক্ষুদ্র বাশঁবাড়ী গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। তার মা হেমায়তপুর গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন।

এছাড়াও পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সন্ধারই গ্রামের হ্যালিপ্যাড পাড়ার বাইশ বছর বয়সী যুবক করোনা শনাক্ত হয়েছেন। সে গাজীপুর গার্মেন্টেসে কর্মরত ছিল।

এ নিয়ে রাণীশংকৈল উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার পযর্ন্ত ৩৫০ জন ব্যাক্তির পাঠানো নুমনা থেকে করোনা শনাক্ত হয়েছেন মোট ২২ জন ব্যক্তির। এবং মারা গেছেন একজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসক ফিরোজ আলম বুধবার(১০জুন) মুঠোফোনে জানান, শুনেছি শিশু বাচ্চাটিকে নিয়ে তার মা ঢাকা চলে গেছেন।সেখানেই তারা নাকি চিকিৎসা নিবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমাদের কাজ নমুনা নেওয়া ।নমুনা নেওয়া রোগীদের কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। আমরা এখন থেকে প্রতিদিনের নমুনা নেওয়া রোগীদের নাম ঠিকানাসহ তালিকা করে প্রশাসনকে দিবো। প্রশাসন যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী আফরিদার মুঠোফোনে বুধবার(১০জুন) বেলা ২টা পঞ্চাশ মিনিটে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি তাতে সাড়া দেন নি।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য