বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরেক দফা লাফ দিয়েছে। সোমবার (৮ জুন) থেকে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪৫ জন। গতকাল ছিল এ সংখ্যা ৪২। তাছাড়া এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ১৭১ জন। গতকাল ছিল এ সংখ্যা ২৭৩৫। এ যাবৎ শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৭৫ জন।

আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১১, সিলেটের ২ রাজশাহী ২ এবং রংপুর ২ জন করোনায় মারা গেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন। ৪৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি হলো ৯৭৫ জনের।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে মোট ৫৬টি ল্যাবে বর্তমানে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৬৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৯৫টি।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭৭৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছন ১৫ হাজার ৩৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনের নেয়া হয়েছে ৫৫৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনের আছেন ১২ হাজার ৪২৮ জন। এছাড়া আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২১৬ জন, এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৩৫ জন।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

উপসর্গহীন সংক্রমণ ছড়াচ্ছে

দেশে ব্যাপকহারে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে উপসর্গহীন আক্রান্তরা তাদের অজান্তেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এ অবস্থায় পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি অ্যান্টিবডি টেস্টের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, শুধু আক্রান্তের সংখ্যা জানতে নয়, করোনা প্রতিরোধে কর্মকৌশল নির্ধারণেও ভালো ফল দিতে পারে অ্যান্টিবডি টেস্ট। প্লাজমা ব্যাংক তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে অ্যান্টিবডি টেস্ট।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ভোগান্তি থাকলেও বেড়েছে টেস্টের পরিধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আরও বাড়াতে হবে। পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি অ্যান্টিবডি টেস্টও রোগীর প্রকৃত সংখ্যা বুঝতে সহায়ক হবে। এছাড়া, আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর রক্ত থেকে নমুনা নিয়ে এন্ডিবডি টেস্ট করা হয়। এ ধরনের পরীক্ষায় বোঝা সম্ভব, কত শতাংশ মানুষ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে। সেই সাথে মহামারি রোধে কৌশল নির্ধারণেও এরকম টেষ্ট করা দরকার। -পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য