দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং শিবরামপুর রাস্তার প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেও সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

অতিস্বল্প সময়ে এ সড়ক দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা সদসর ও স্থানীয় হাট খোচাবাড়ী পৌঁছা যায় বলে সড়কটি উপজেলাবাসীর কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। মধন সাকো গ্রাম থেকে শুরু করে শিবরামপুর মুরারীপুর,শাহডুবি, রথের বাজার দৌউলি ধানগাঁও পর্যন্ত ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দিয়ে দুর্ভোগে ১০ গ্রামবাসী। এই রাস্তা পাকা না হওয়ায় ৪০ বছর ধরে দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন স্কুল -মাদ্রাসা সহ ২০ হাজার মানুষ।

এলাকাবাসী জানান, বেশিরভাগ স্থান দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু হওয়াসহ গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাদা জমাট হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে ছোট যান, যেমন অটোচার্জা, মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিক্সা চলাচল করছে। এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত কোন কোন যান দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এই রাস্তাটি বৃষ্টিপাতের কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায়।

ঘন-বর্ষার সময়ে জল কাদায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এ রাস্তা। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আর উপায় থাকে না। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এরাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও এনজিও, ব্যাংক,বীমা সহ গ্রামের হাজার হাজার লোক চলাচল করে।

এছাড়া কার্দমাক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়ে হাট- বাজারে যেতে এলাকাবাসীকে পড়তে হয় চরম বিপাকে। শনিবার সরেজমিনে গেলে, এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নেতা আসে নেতা যায়,কিন্তু এ রাস্তা পাকা হয় না। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এ রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে আর কেউ এর খোঁজ রাখেন না।

এই ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল,মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও ভূমি অফিস, পোষ্ট অফিস, কৃষি ব্যাংক,গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্তকর্তা-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এ ব্যাপার শিবরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনক চন্দ্র অধিকারী বলেন, এলজিডির আওতাধীন কাঁচা সড়কের কাজ দীর্ঘদিন হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেখিয়ে এই সড়কের সংস্কার হচ্ছে না। এই ইউনিয়নের ১৫ -২০ হাজার মানুষের চলাচল করতে নানাভাবে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নাফ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই সড়কের বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য