দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দেশে সেরা মানের দিনাজপুরের লিচু। সমগ্র দেশে দিনাজপুর জেলায় লিচুর বড় কদর রয়েছে। দিনাজপুরের লিচুর মান অন্যান্য জেলা থেকে অনেক মাত্রায় উচুঁতে আবস্থান করছে। বাজারে রসালো মিষ্টি লিচু বেশ কিছু দিন ধরে উঠতে শুরু করেছে। মিষ্টি ও রসালো স্বাদের বৈশিষ্ট নিয়ে বিভিন্ন জাতের এ লিচুর মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও চায়না-থ্রি রয়েছে।

তবে বর্তমানে বাজারে অন্যান্য লিচুর চেয়ে, বেদানা ও মাদ্রাজি লিচুর বেশী আমদানি হচ্ছে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বোম্বাই এবং চায়না-থ্রির বাজার বাড়বে।

কৃষি সম্প্রসারন এর তথ্য অনুসারে দশ বছর আগেও দিনাজপুরে লিচু চাষের জমির পরিমান ছিল ১হাজার ৫শ হেক্টর। বর্তমানে সেখানে এটা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৬ হাজার ৫শ ৪৬ হেক্টর।

দিন দিন লিচুর ফলন এবং দাম ভাল পাওয়ায় এ চাষের জমির পরিমান বাড়ছেই। তবে দিনাজপুর জেলায় বিরল উপজেলায় লিচুর বাগানের ক্ষেত্রে অনেক সফলতা অর্জন করেছে। কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে জেলাতে লিচু বাগানের জন্য বিরল উপজেলার অবস্থান অন্যান্য উপজেলা থেকে শীর্ষে রয়েছে। এখানে ২ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিতে লিচরু চাষাবাদ হয়েছে। কাহারোল উপজেলা দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। এখানেও ১ হাজার ৩ শতক ০৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে দিনাজপুর জেলায় লিচুর বাজার মানসম্মত রাখতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম ব্যাপক প্রসারের জন্য গোর-এ শহীদ ময়দানে লিচু বাজারের শুভ উদ্বোধন করেন। জানা যায়, এখানে পাইকারদের সব রকম সুবিধা তৈরী করা সহ সেই সাথে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বাঁধা সন্মুখীন না হতে হয় সেই দিকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

দিনাজপুর সদরের মধ্যে মাসিমপুর, কসবা, বাঁশেরহাট, পুলহাট, পাঁচবাড়ি এবং বিরল ও কাহারোল উপজেলাসহ প্রায় সব উপজেলা থেকে লিচু আসতে শুরু করেছে। বেশ কিছু দিন আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে লিচুর ফলন কমে গেছে। বাগানকারীরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।

বাগানের মালিকরা বলছেন, দাম ভাল পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বাজার প্রসার ঘটাতে হবে মাল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ীর সু-ব্যবস্থা থাকতে হবে।

দিনাজপুর সদরে পাচঁবাড়ী এলাকায় বাগানের মালিক মোঃ আনিসুর রহমান জানান, ঝড়ে বাগানের প্রায় ১৫ টি গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে পঞ্চাঁচ হাজার থেকে ষাট হাজার টাকার লিচু নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে লিচুর বাজারে চাহিদা বাড়লে দাম পাওয়া যাবে। সরকারকে বাজারের প্রসার ঘটাতে হবে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য ভ’মিকা পালন করতে হবে।

আর একজন বাগানের মালিক সদরের মাসিমপুর এলাকা মোঃ বশির উদ্দিন বলেন, আমার তিন বিঘার বাগানে ঝড়ে লিচু নষ্ট হওয়ার পরও বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে লিচুর দাম পাবো। বাহিরের পাইকারদের সব রকম সুবিধা দিতে হবে।

বিরল উপজেলায় মঙ্গলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুর জেলায় বিরল উপজেলা লিচু উৎপাদনের ক্ষেত্রে সিংহভাগ ভ’মিকা রাখছে। দিন দিন লিচুর বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখান থেকেও জেলার বাহিরের পাইকাররা লিচু নিয়ে যাচ্ছে তবে দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে লিচু বাজারের উদ্বোধন হওয়াতে লিচুর কদর বাড়বে, দামও পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রসার ঘটাতে পাড়লে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়বে।

একই কথা বলছেন দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষেরা। সরকারকে দিনাজপুরের লিচুর মান বৃদ্ধি এবং বাপক প্রসার ঘটাতে নানামুখী কর্মসূচী গ্রহন করা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রসার বাড়লে অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মক্ষেত্র তৈরী হবে।

এই বিষয়ে কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাফর ইকবাল (উদ্যান বিষয়ক) বলেন, করোনা ভাইরাসে চারিদিকে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে লিচু বাগানকারীদের সেখান থেকে নায্য দামের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বাজারকে সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে গোর এ শহীদ বড় ময়দানে বৃহৎ আকারে লিচুর বাজার বসানো হয়েছে।

পাইকারীদের জন্য সব ধরনের সুবিধা সৃষ্টি করে বাজারকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে নানা মুখী কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। ৫ টন পর্যন্ত মালামাল ডাক অফিসের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে লিচু চাষীদের সুবিধার্থে। এতে আমরা সুফল পেতে বসেছি। দিন দিন লিচুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিচু চাষীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা সর্বাত্বক পন্থা অবলম্বন করেছি।

কৃষিবিদ আরও বলেন, দিনাজপুরের লিচু আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক নির্দেশনা তার মধ্যে লিচুর মান বৃদ্ধির জন্য লিচু চাষীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে লিচুর বাজারকে আরো সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে লিচুকে হিমায়িত রাখার জন্য জেলায় কোলস্টোরের চাহিদা চাওয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রানালয়ের কাছে এবং লিচু পরিবহনের জন্য রেল গাড়ীর ওয়াগন দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে লিচুর চাহিদাও বাজারে বাড়ছে বাগান কৃষকরা নায্য দাম পাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য