ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বৈশিক প্রাদুর্ভাব করোনা আক্রান্ত এখন অফিস আদালত হাট বাজার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, সভ্যতা সংস্কৃতি, এর প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের উপর। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায শিক্ষার মনোনিবেশ হারাচ্ছে প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেনীতে অধ্যায়ন করা শিশু শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবকদের সাথে কথাা বলে জানাগেছে শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ ধরে রাখতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ক্লাস হলেও, সেই ক্লাস দেখা হয়না, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করা মফস্বলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের। খোজ নিয়ে জানা গেছে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ঘরে টেলিভিশন নাই, আবার বিদুতের আসা যাওয়ায় প্রতিদিন নিদিষ্ঠ সময টেলিভিশন দেখারও সুযোগ হয়না। মাধ্যমি বিদ্যালয় গুলোর অনলাইনে ক্লাস হলেও, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নাই ল্যাবটপ কমপিউটার কিংবা এ্যানড্রোয়েট মোবাইল, যার ফলে অনলাইন ক্লাস করা হয়না অধিকাংশ শিক্ষার্থীর।

কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা জানায়, বছরের গ্রীষ্ম, শীত ও রমজান মাসে বিদ্যায়ল ছুটি দেয়ার পর শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত করতে ও শিক্ষায় মনোনিবেশ ফিরাতে অনেকটা সময় লেগে যায়। সেখানে করোনার কারনে দির্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনোনিবেশ ফিরাতে অনেক সময় লেগে যাবে। শিক্ষকেরা জানায়, জানুয়ারী থেকে ক্লাস শুরু হয়ে মার্চ মাসের ২৬ তারিখে বিদ্যালয় গুলো বন্ধ হয়ে যায়।

এরফলে সাময়িক আধা-সাময়িক পরিক্ষা গুলো অনুষ্ঠিত হতে পারেনি, এখন জুন মাস আর ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, এই শিক্ষাবর্ষের হাতে সময় আছে মাত্র ৫মাস, কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো খুলবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। শিক্ষকেরা যদি আরো দির্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকে, তাহলে এই শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা লেখা করার সময় পেয়েছে দুই থেকে তিন মাস। এতে করে শিক্ষার মনোনিবেশ হারানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গুনগত মানও কমে যাবে, যা সামনের শ্রেনীতে এর প্রভাব পড়বে। শিক্ষকরা বলেন শিক্ষার্থীদের এই ঘাটতি পুরন হতে আরো দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যাবে।

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য জোটের সাধারন সম্পাদক ও একই উপজেলার দলদলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম সরকার বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শহরের ও শিক্ষিত পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পরিবেশের মধ্যে থাকলেও, শিক্ষার মনোনিবেশ হারায় মফস্বলের শিক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করা অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের, সেই পরিবার গুলোর এখন লবন আন্তে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার অবস্থা , সেখানে তাদের শিক্ষার্থী সন্তানদের বাড়তি ব্যবস্থা করা কঠিন।

সহকারী অধ্যাপক সাংবাদিক শেখ সাবীর আলী জানায় বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়্ার টেবিলে বসা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে দির্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল ছেড়েছে, এই দির্ঘ সময়ের পর তাদেরকে শিক্ষার মনোনিবেশে ফিরাতে অনেক সময় লেগে যাবে।

তিনি বলেন দির্ঘ সময় শিশু শিক্ষার্থীদের লেখা বন্ধ থাকলে, তারা লেখাপড়া ভুলতে শুরু করে, ফলে তাদের সামনের সময় গুলোতে অনেক প্রভাব পড়ে। এতেকরে একজন ভাল শিক্ষার্থীও আশানুরুপ ফলাফল করতে পারেনা, যা তাদের লেখাপড়ায় একটি নিতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই জন্য তিনি অভিভাবদের সর্তক থাকার পরামর্শদেন।

এদিকে প্রবীণ শিক্ষকেরা বলছেন শিশুরা যেমন কোমল তোদের মন ও চেতনাও অতি কোমল, যখন যে কাজে থাকে তাদের চিন্তা চেতনায় সেই কাজটি থাকে। বিদ্যালয় গুলো চালু থাকলে প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ ঘন্টা তারা বিদ্যালয়ে থাকে, এই জন্য তাদের চিন্তা চেতনায় বিদ্যালয় আর বিদ্যার্জন নিয়ে থাকে, এখন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায বাড়ীর চার দেয়ালে তারা এখন এক প্রকার বন্ধি, এই কারনে তাদের চিন্তা চেতনা থেকে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হারিয়ে ফেলছে,এতেকরে শিক্ষার আগ্রহ হারাচ্ছে এই শিশুরা।

এই প্রবীন শিক্ষকেরা বলেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মনোনিবেশ ধরে রাখার জন্য্য বিকল্প উপায় বের করতে হবে, তা না হলে এই শিশু শিক্ষার্থীদের উর্প এই প্রভাব দির্ঘ সময় পড়বে। এই জন্য তারা শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবদের সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন।

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজকরা ফুলবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ হাছিনা ভূঁইয়া বলেন, বৈশিক প্রাদুর্ভাব করোনা ভাইরাসে সব মানুষ আক্রান্ত না হলেও, আক্রান্ত হয়েছে গোটাজাতি। অফিস আদালত, কর্মস্থান, অর্থনীতি, সভ্যতা সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ সব কিছুকে আক্রান্ত করেছে করোনা। সেখানে শিক্ষা-শিক্ষার্থীরাও বাদ পড়েনি।

তিনি বলেন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ কমে যায়, সেখানে শিশুরা আরো বেশি মনোনিবেশ হারায়। তবে শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ ধরে রাখার জন্য প্রতিটি অভিভাবদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে ফুলবাড়ী উপজেলায় ১১০ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬২টি কিন্ডার গার্ডেন বিদ্যালয়ে ১৮৩৫২জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে, এছাড়া উপজেলার ৩৫টি মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য