ক্ষোভ থেকে রংপুর আইনজীবি সমিতির সদস্য, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক এপিপি এ্যাডভোকেট আসাদুল হককে (৬০) দিনে-দুপুরে গলাকেটে হত্যা করেছে প্রতিবেশী রতন মিয়া (২৬)। স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন মামলায় সহযোগিতা করা ও রাস্তায় দেখা হলে খারাপ ভাষায় গালি-গালাজ করায় রতন ওই আইনজীবিকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আইনজীবি হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ রতনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার আরেক সহযোগি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।

রবিবার দুপুরে রংপুর নগরীর তাজহাট থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত শুক্রবার রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রবীন আইনজীবি ও সাবেক এপিপি আসাদুল হক নিজ বাড়ি রংপুর নগরীর ধর্মদাস বারো আউলিয়া এলাকা থেকে মর্ডাণ মোড় যাওয়ার জন্য রাস্তায় বের হন। এ সময় রতনকে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে দেখে আসাদুল হক রতনকে উদ্দেশ্য করে খারাপ ভাষায় গালি দেয়। রতন এর কোন উত্তর না দিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এরপর বাড়িতে এসে প্রতিবেশী আইনজীবির বাড়িতে চুরি ও তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে রতন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো চাকু নিয়ে ওই আইনজীবির বাড়িতে অবস্থান করে সে। আসাদুল হকের ড্রয়ার থেকে ৭ হাজার ৩১৭ টাকা চুরি করে আসাদুল হকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আসাদুল হক শয়নকক্ষে প্রবেশ করলে ওৎ পেতে থাকা রতন তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে কয়েকবার আসাদুল হকের পেটে আঘাত করে। এ সময় রতনের নাম ধরে চোর চোর চিৎকার করলে রতন চাকু দিয়ে আসাদুল হকের গলায় কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। আইনজীবির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে রতন বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পার্শ্ববর্তী কচু ক্ষেতে লুকিয়ে থাকে। এলাকাবাসী রতনের হাতে চাকু ও রক্তমাখা শার্ট দেখে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। এরপর পুলিশ শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় রতন মিয়া। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান আরও জানান, রংপুর কোতয়ালী থানাসহ বিভিন্ন থানায় রতন মিয়ার নামে একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। নারী নির্যাতনের মামলায় আইনজীবি আসাদুল হক রতনের স্ত্রীকে সহযোগিতা করে। এতে করে রতনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছিলো। এর আগেও রতন আসাদুল হকের বাড়িতে চুরি করেছে। যে চাকু দিয়ে আসাদুল হককে হত্যা করা হয়েছে সেটি ওই তার বাড়ি থেকে রতন চুরি করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ্ কাওসার, সহকারী কমিশনার (কোতয়ালী জোন) জমির উদ্দিন, তাজহাট থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল ইসলাম, এসআই মামুনুর রশিদ মামুন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য