মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে অপহরণ করে চাঁদা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মুলহোতা এবং এক নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) রাতে তাদের আটক করা হয়েছে। অপর ২ সদস্য পলাতক।

থানা সূত্রে জানা যায়, রংপুর গঙ্গাচড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে জসিম উদ্দিন ব্যক্তিগত কাজে সৈয়দপুরে আসেন। কাজ শেষে রংপুরে যাওয়ার পথে সৈয়দপুর বাসটামিনালে পৌঁছালে ২ ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তাকে ইয়াবা ব্যবসার অপবাদ দিয়ে অপহরণ করে শহরের মুন্সিপাড়া মহল্লার খেজুরবাগ মসজিদের পাশের একটি তিন তলা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নিচ তলায় তাকে আটক করে রাখে।

কয়েক মিনিট পর বাসার মালিক মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে আবু বিন আজাদ (শাওন) এসে তার সহযোগিরাসহ আটক জসিমকে মার ডাং শুরু করে। এর পর ওই বাসার ভাড়াটিয়া সুন্দরী আকতারা ও জসিমকে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারন করে শাওন। ভিডিও ধারনের পর তাকে থানা পুলিশে দিবে এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জসিমকে হুমকি দেওয়া হয়। এজন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবী করা হয়। ভয়ে জসিম তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার এবং বাড়ি থেকে বিকাশের মাধ্যমে আরো ২০ হাজার টাকা এনে তাদের দেয়। বাকী টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে রফাদফা করে।

সৈয়দপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে জসিমকে উদ্ধার করে এবং অপহরণ দলের মুলহোতা শাওন, আকতারা বেগম ও তার স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং -৭।

অভিযোগ রয়েছে শাওন ওই সুন্দরী নারীকে বাসায় রেখে দেহ ও মাদক ব্যবসা করে এবং টাকা ওয়ালা ব্যক্তিদের তার সহযোগীর মাধ্যমে ফাঁসিয়ে বাসায় এনে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল বলেন, এরকম একটি গ্রুপ দীর্ঘ দিন থেকে এ ধরনের কাজ করছে। এর আগে একটি গ্রুপকে আমরা ধরেছি। আজকেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে আটক করেছি। বাকী ২ জনকে গ্র্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য