যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশ হেফাজতে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর প্রতিবাদে কানাডার পার্লামেন্টের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

কালো মাস্ক পরে, দেহরক্ষীদের নিয়ে আচমকাই তিনি শুক্রবারের ওই সমাবেশে হাজির হন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

‘নো জাস্টিস = নো পিস’ সমাবেশে ট্রুডো অন্যদের মতোই হাঁটু গেড়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান। এসময় অনেক বিক্ষোভকারী কানাডার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ‘ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়াও’ স্লোগান দেন।

অটোয়ায় বর্ণবাদবিরোধী এ বিক্ষোভের একদিন আগেই কানাডার পূর্বাঞ্চলে পুলিশের গুলিতে এক আদিবাসী নারী নিহত হয়েছে।

কানাডাজুড়ে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে হওয়া কর্মসূচি ও সমাবেশগুলোতে আদিবাসীদের প্রতি শোষণ-নিপীড়নের বিষয়গুলোও উঠে আসছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিনিয়াপোলিসে শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ সদস্যের হাতে ৪৬ বছর বয়সী নিরস্ত্র ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সমর্থনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হচ্ছে।

শুক্রবার অটোয়া ছাড়াও কানাডার অনেকগুলো শহরে বর্ণবাদবিরোধী কর্মসূচি হয়েছে। টরন্টোতে কয়েকশ ব্যক্তি ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে হওয়া শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে।

পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রতি নিপীড়ন ও পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে অন্যদের মতো ট্রুডোও তিনবার হাঁটু গেড়ে সংহতি জানান বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এরপর বিক্ষোভকারীদের অনেকে সমাবেশে অংশ নেয়ায় ট্রুডোকে ধন্যবাদ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কানাডার এ প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, “কানাডার জনগণ ভীতি ও আতঙ্ক নিয়ে ‍যুক্তরাষ্ট্রকে দেখছে।”

উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত এ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবারের সমাবেশে বক্তৃতা করেননি; বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে শোভাযাত্রা শুরু করলে ট্রুডো সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য