কোভিড ১৯-এর আগে আমাদের দুনিয়াটা যেমন ছিল, তা বদলে যাচ্ছে খুব দ্রুত। লকডাউন যখন শুরু হয়েছিল, তখন বোঝা যায়নি সমস্যার শিকড় কতদূর যাবে। সত্যি বলতে কী, এখনও যে খুব বোঝা যাচ্ছে তা নয়। তবে ইতিমধ্যেই অর্থনীতিতে লেগেছে বিপুল ধাক্কা, কাজ হারাতে আরম্ভ করেছেন বহু মানুষ। যাঁদের চাকরি এখনও যায়নি, তাঁরাও বুঝতে পারছেন না ঠিক কতদিন চলবে এই পরিস্থিতি। অনেকেই আছেন, যাঁদের রিটায়ারমেন্ট এসে গিয়েছিল কাছে, সংস্থাগুলি খরচ কমানোর জন্য তাঁদের ছেঁটে ফেলেছে সবার আগে — তখনও হয়তো বাড়ির লোন শোধ হতে ঢের বাকি! আবার যারা সদ্য পাশ করে বেরিয়েছেন তাঁদেরও চাকরি জোটার আশা খুব কম। ফলে সব মিলিয়ে বাড়ছে হতাশা, ডিপ্রেশন।

সাইকায়াট্রিস্ট ডা. অনিরুদ্ধ দেব বলছেন, “এই পরিস্থিতিটাই এমন যে ঠিক কী করলে যাঁর চাকরি গিয়েছে তিনি ভালো থাকবেন সেটা বলা খুব মুশকিল। মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন খাদ্য, তার পর আসে বস্ত্র আর বাসস্থান। টাকা না থাকলে কোওটাই থাকবে না। ছোটোখাটো কিছু করে যে চালাবেন, তারও সুযোগ কম। কারণ বাজারে উপভোক্তাই নেই। আমার পরামর্শ হচ্ছে, প্রথমে আপনার যেটুকু সঞ্চয় আছে, সেটা সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করুন। আর খুব কম খরচে চালান। আশা করা যাক এই পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হবে না।”

একমাত্র এই আশায় ভর করে চলা ছাড়া আর উপায় নেই। মনে রাখবেন, কম্পিউটার যখন এল, তখনও মনে করা হয়েছিল যে প্রচুর মানুষ কাজ খোয়াবেন। তা হয়নি তো? তা ছাড়া এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইয়ের চেষ্টা হচ্ছে সরকারের তরফেও। ভাইরাস একবার বাগে এলেই অবস্থা বদলাবে নিঃসন্দেহে। সেই সময়টার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। যাঁদের মাথায় ব্যবসার প্ল্যান আছে, তাঁরা সেটা ট্রাই করে দেখার কথা ভাবতে পারেন, কারণ ছোটো ব্যবসায়ীদের জন্য নানা লোনের ব্যবস্থা হচ্ছে। তার ইন্টারেস্ট রেট-ও নামমাত্র। ভেঙে পড়ে হেরে যাবেন না, ভালো সময় ফিরবে এই আশায় বুক বেঁধে লড়াই জারি রাখুন।

ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট সার্ভিস ফার্ম ‘অ্যাগলেট ইঙ্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা-সিইও ঋতি রায় চাকরিপ্রার্থীদের সিভি লেখার কাজে সাহায্য করেন। তাঁর বক্তব্য, “এখন বাজারের অবস্থা টালমাটাল, চাকরি পাওয়া মুশকিল। সম্ভব হলে একটু অপেক্ষা করুন। ততদিন ফ্রিল্যান্স কাজ করে টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারেন। চাকরি সংক্রান্ত রিসার্চ থামাবেন না। বিশেষ করে আপনার নিজের কাজের ক্ষেত্রটা এখন ঠিক কী অবস্থায় আছে, সেটা জানা দরকার। দুই, নেটওয়ার্কিং করুন, অনলাইনে সেটা করতে অসুবিধে হবে না। অন্য সময়ে আপনি কোনও কোম্পানির সিইওকে হয়তো সরাসরি মেল করতেন না, কিন্তু এখন তা করা যায় — সবাই অনলাইনেই কাজ করছেন, তাই উত্তর পাওয়ার আশাও আছে। প্রশ্ন করুন। আপনি কীভাবে সেই সংস্থাকে সাহায্য করতে পারেন তা জানান। নেটওয়ার্কিং খুব কাজে লাগে — বিশেষ করে যাঁরা অন্য কোনও ফিল্ডে সরে যেতে চাইছেন, তাঁরা নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে উপকার পেতে পারেন। আপনার কাজে সরাসরি সাহায্য করতে পারে, এমন কোনও স্কিল আয়ত্ব করতে পারলে খুব ভালো হয়।”

তার আগে নিজেকে কিছুটা সময় দিন। এত বড়ো একটা সমস্যা চলছে, খানিক বিপর্যয় হবেই। তাই মাথা ঠান্ডা রাখা খুব জরুরি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, সঞ্চয়ে হাত পড়লে চিন্তিত হবেন না — এমন পরিস্থিতি সামাল দিতেই সঞ্চয় কেন সবাই! কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সেদিনের জন্য অপেক্ষা করুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য