দিনাজপুর সংবাদাতাঃ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে যেখানে মৃত্যুর খবর চারিদিকে তার মধ্যে সুসংবাদ দিল দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। খানসামা উপজেলায় মোট ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে আইসোলেশন কেন্দ্র থেকে দুই জন সুস্থ হয় বাড়ি ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪জুন) সকালে পাকেরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে সুস্থ হওয়ার সার্টিফিকেট ও পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা.আবু রেজা মোঃ মাহমুদুল হক,আরএমও ডা.শামসুদ্দোহা মুকুল, ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম,ভেড়ভেড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ সরকার সহ আরো অনেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে,গত ১৫মে উপজেলার আগ্রা গ্রামের মিথিলা নামে এক নারী এবং গত ২১মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফেরত চকসাকোয়া গ্রামের রুবেল নামে এক যুবক করোনা শনাক্ত হন।পরে তাদেরকে আইসোলেশন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাদের দুইবার ফলোআপ পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে।

ছাড়পত্র পাওয়া ২৯বছর বয়সী মিথিলা বলেন,‘আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। করোনায় আক্রান্ত শুনে অনেক ভয় পেয়েছিলাম। মনে করছিলাম আর বাঁচবো না। তবে ইউএনও, চিকিৎসকরা, পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে সবসময় সাহস দিয়েছেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা.শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন,‘করোনার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও লক্ষণ দেখে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছিলাম।আর করোনা আক্রান্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর মনোবল বাড়ানো,পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, যাতে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।’

ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, করোনাকে ভয় নয় জয় করতে হবে। সেইজন্য আতংকিত না হয়ে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমরা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকল স্তরের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করেছি এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য