কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবস ও ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের নাগদাহ গ্রামে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে প্রকৃতির ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঠের ধান, ফলের গাছ, বাঁশঝাড় ও সুপারি বাগান। ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক কৃষক ও দিনমজুর ক্ষতিপূরণ দাবি করে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন, উপজেলার খড়িবাড়ী সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের নিকটবর্তী এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবশ গ্রামে অবস্থিত মেসার্স আলতাফ ব্রিকস নামে ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় অন্তত ২০ বিঘা জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। বাদামি রঙ ধারণ করে ঝরে পড়ছে বিভিন্ন জাতের গাছের পাতা। পুড়ে গেছে বাঁশঝাড়, কলাগাছ ও সুপারি গাছের পাতা ও কান্ড। পরিপক্ক হওয়ার আগেই আম, নারিকেল, সুপারি, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের গাছ থেকে ঝরে পড়ছে ফলগুলো।

নওদাবস গ্রামের মুকুল চন্দ্র রায়, বিশ্বনাথ রায়, কেচু মামুদ ও তাজুল ইসলামসহ অনেকের ধানক্ষেতের পাশাপাশি বাঁশঝাড়, সুপারি, আম, কাঁঠাল ও লিচু গাছের ফল ঝরে পড়ে গেছে। একই অবস্থা জাহিদুল ইসলাম, ক্ষিতিশ চন্দ্র, কুমার বিশ্বজিৎ ও বাহারউদ্দিনসহ অনেকের।

ওই গ্রামের সুকুমার রায় জানান, প্রতি বছরেই ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় শত শত কৃষকের ফসলসহ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না।

নাগদাহ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক জানান, ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ভাটা মালিকের সঙ্গে কথা বললেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

মেসার্স আলতাফ ব্রিকসের মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, গত মাসের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় এলাকার কিছু গাছপালা ও ফসলের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশীদ জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মাছুমা আরেফিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য