প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের কর্তৃত্বের অপব্যবহার করে আমেরিকাকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন একজন প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে সমালোচনা করার বিষয়টি দীর্ঘদিন এড়িয়ে গেছেন বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তা, কিন্তু বুধবার আর কোনো রাখঢাক না রেখেই নাগরিক অস্থিরতা দমাতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চাওয়ায় ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

রয়টার্স লিখেছে, প্রভাবশালী সাবেক মেরিন জেনারেল ম্যাটিস, ‍যিনি নীতিগত বিরোধের কারণে ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন, পেন্টাগনের সাবেক নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ভাষায় জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার নিন্দা জানিয়েছেন।

২৫ মে কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েডকে মিনিয়াপোলিসের পুলিশ হেফাজতে হত্যা করা হয়।

আটলান্টিক সাময়ীকিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ম্যাটিস বলেন, “আমার জীবদ্দশায় প্রথম প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মার্কিন জনগণকে একতাবদ্ধ করার চেষ্টা করেননি, এমনকী চেষ্টা করার ভানটুকু পর্যন্ত করেননি।

“তার বদলে তিনি আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন। তিন বছরের এই সচেতন প্রচেষ্টার পরিণতি এখন প্রত্যক্ষ করছি আমরা। তিন বছর ধরে পরিণত নেতৃত্ব না থাকার ফলাফল দেখছি আমরা।”

এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডকে হত্যা করার পর পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে তা দমনে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রাজ্য গভর্নরদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই তিনি এমনটি করবেন বলে জানান।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে বর্তমান ও সাবেক অনেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন ও এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

ম্যাটিস লিখেছেন, “ওয়াশিংটন ডিসিতে আমরা যেমনটি প্রত্যক্ষ করেছি, সামরিক বাহিনী নামানোতে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে-মিথ্য দ্বন্দ্ব -সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সমাজের মধ্যে।”

ধারাবাহিক কয়েকটি টুইটে এর জবাব দেন ট্রাম্প। ম্যাটিসকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অতিমূল্যায়িত জেনারেল’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি লিখেন, “আমি তার ‘নেতৃত্বের’ ধরন পছন্দ করতাম না, তার অনেক কিছুই পছন্দ করতাম না, আমার সঙ্গে অনেকেই একমত। খুশী যে সে চলে গেছে!”

ফ্লয়েডের মৃত্যুর দিন রাতেই মিনিয়াপোলিসজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই উত্তাল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির ছোট-বড় বহু শহরে চলা বিক্ষোভের সময় সহিংতা, কোথাও কোথাও লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটে।

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভের সময় জনতা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে দাঙ্গায় জড়ালে কিছুক্ষণের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বহু শহরে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ চালিয়ে যায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা। তাদের দমাতে কাঁদুনে গ্যাস, পেপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পুলিশ। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য