কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বন্য হাতি প্রবেশ করে স্থানীয় কৃষকদের ধানক্ষেত নষ্ট করছে।

গত এক সপ্তাহে এসব বন্য হাতির দল এ পর্যন্ত ৪০ জন কৃষকের ২৫ হেক্টরের মতো পাকা ধান ক্ষেত নষ্ট করেছে বলে রৌমারী উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন জানান।

স্থানীয়রা বলছে, ভারতীয় হাতির তাণ্ডবে পাকা ধান রক্ষা করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। রৌমারী এবং রাজিবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে ভারতীয় এসব বন্য হাতি। ভারতের গারোহীলসহ নিকটবর্তী পাহাড় থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে ২০/৩০টি ভারতীয় বন্য হাতির দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আগে শুধু রাতে আসলেও এখন দিনের বেলায়ও আসছে এসব হাতির দল।

রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, বন্য হাতির দল তার আড়াই বিঘা ধানক্ষেত নষ্ট করেছে। মঙ্গলবার দিনের বেলায় ২৬টি ভারতীয় বন্য হাতির একটি দল সীমান্ত পেরিয়ে রৌমারী সদর ইউনিয়নে ঢুকে পড়ে। হাতির দল ওই ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি, চুলিয়ারচর ও ঝাউবাড়ি এবং যাদুরচর ইউনিয়নের পাহাড়তলী বিক্রিবিল দক্ষিণ আলগারচর, খেওয়ারচর, বকবান্ধাসহ ৮টি গ্রামের হেক্টরের পর হেক্টর পাকা ধান ক্ষেত তছনছ করে ফেলে।

“এছাড়াও গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী প্রায় শতাধিকের বেশি কৃষকের ৩০ হেক্টর পাকা-আধা পাকা ধান গম, কলা বাগান, ভুট্টা ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নষ্ট করেছে হাতির দল।”

হাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচতে দুই দেশের মানুষজন ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, আগুন জালিয়ে, পটকা ফাটিয়ে ও শ্যালো মেশিন চালু করে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে বলে জানান নাসির।

এছাড়া দক্ষিণ আলগারচরের হায়দার আলীর দুই একর ও খেওয়ার চরের এমদাদুল হকের ৫ বিঘা ধান ক্ষেত হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তারা।

হায়দার বলেন, ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন; এখন ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেই সঙ্গে হাতির দল কখন লোকালয়ে ঢুকে জানমালের ক্ষতি করবে সেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, “সন্ধ্যায় এক দল হাতি ঢুকছে আবার সকালে চলে যাচ্ছে। আবার সকালে আসছে আরেক দল। বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দেওয়ায় হাতির দলগুলো একের পর এক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে ফসল নষ্ট করছে।”

এজন্য চোখে টর্চ লাইটের আলো ফেলে হাতির দলকে তাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য