মোঃ জাকির হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন করে সনাক্ত হওয়া স্বামী-স্ত্রীর আইসোলেশন নিশ্চিত করলো সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান। তিনি মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলী গ্রামে উপস্থিত হয়ে গতকাল করোনা পজিটিভ মোঃ আদম আলী (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী পারুল বেগম (৫৭) কে নিজ উদ্যোগে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে এসে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের তত্বাবধানে হস্তান্তর করেন। এই স্বামী স্ত্রী তাদের ঢাকা ফেরত ছেলে উজ্জ্বলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে।

জানা যায়, গত ২০ মে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে উজ্জ্বল (৩২) । এর পর সে ঈদ উপলক্ষ্যে শ্বশুর বাড়ি পাশ্ববর্তী কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢালেও যায়। সে আগে থেকেই করোনা পজিটিভ ছিল। গোপনে বাড়িতে আসলেও এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে গত ২৭ মে তাকে আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়। এসময় সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায় তার পরিবারের সদস্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহিত ওই নমুনার রেজাল্ট গতকাল ১ জুন সোমবার রাতে পাওয়া যায়।

এতে উজ্জ্বলের বাবা ও মায়ের রেজাল্ট পজিটিভ আসে। ফলে রাতেই স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামে উজ্জ্বলের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় তাদের আইসোলেশনে নেয়ার জন্য। কিন্তু উজ্জ্বলের পরিবারের লোকজন তাতে বাধা দেয় এবং বাড়িতেই আইসোলেশনের দাবি জানায়। এতে বিপত্তি দেখা দেয়ায় রাতে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ফিরে আসে এবং আজ সৈয়দপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিষয়টি সমাধান করেন।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান ওই পরিবারের লোকজনকে কোন রকম চাপ প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারনা দিয়ে বুঝিয়ে তাদেরকে আইসোলেশনে আসার ক্ষেত্রে সম্মত করতে সক্ষম হয়। এ সময় তিনি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রথম থেকেই সৈয়দপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা, শহরজুড়ে বিভিন্ন গণসংযোগমুলক কার্যক্রম পরিচালনা, থানায় আগত ব্যক্তিদের জন্য হাত ধোওয়ার বেসিন সম্বলিত ডিভাইস স্থাপন, হ্যান্ড সেনেটাইজার ও মাস্ক বিতরণ, শহরের দোকানপাঠের নিয়মানুবর্তিতা মেনে চালানোর বিষয় তদারকি, জনগনকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে মাঠ পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১ জুন থেকে মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে ক্যাম্পিং করে মাস্কবিহিনদের জরিমানা স্বরুপ ১০টি করে মাস্ক কিনে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া করোনা সনাক্ত রোগীদের আইসোলেশন বা লকডাউন নিশ্চিত করতে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং লকডাউনকৃত এলাকা বা বাসাবাড়ির আশপাশের লোকজনের চলাচল ও নির্দেশনা মান্য করার ক্ষেত্রে তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। সে সাথে মৃত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনের সময় প্রশাসনের সাথে থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রেখে চলেছে পুলিশ।

তিনি সৈয়দপুরবাসীর প্রতি সরকারী সকল নির্দেশনা মেনে এবং সচেতনতার সাথে চলাচল ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একান্ড প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে নিচে বাঁচুন এবং অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করুন। একজন সুনাগরিক হিসেবে এসময় সতর্কতার সাথে চলা একান্ত কর্তব্য। তাই সবাই মিলে সতর্ক হয়ে একসাথে বাঁচতে হবে। নইলে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য