আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের ১১০ কিলোমিটার উত্তরে পলঘর এলাকা দিয়ে এ ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে উঠে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবের পর দুই সপ্তাহ পার না হতেই গত শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরে লাক্ষাদ্বীপের কাছাকাছি একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়৷ পরে তা নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হলে নাম দেওয়া হয় নিসর্গ৷

আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্র উপকূলজুড়ে জলোচ্ছ্বাস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

গত একশ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম মুম্বাই একটি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি থানে, পলঘর ও রাইগাডেও রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

রাইগাড দিয়েই নিসর্গ স্থলে উঠে আসবে, এমন ধারণা থেকে বৃহস্পতিবারও ওই এলাকায় রের্ড অ্যালার্ট বহাল থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এই সময় পূর্ব মধ্য আরব সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকবে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ থেকে ১৩ ফুট উঁচু ঢেউ বয়ে যেতে পারে। এ সময়ে জেলেদের সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরব সাগরের আবহাওয়ার ধরনের কারণেই মুম্বাইয়ে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি কম। প্রতি বছর এই সাগরে গড়ে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। সেসব ঘূর্ণিঝড় সাধারণত পশ্চিম দিকে ওমান ও এডেন উপসাগরের দিকে চলে যায়।

কখনও কখনও উত্তরে গুজরাটের উপকূলের দিকে ধেয়ে গেলেও পূর্বমুখি সাধারণত হয় না। গত বছর আরব সাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড় বায়ু গুজরাট উপকূলে আঘাত হেনেছিল। এর আগে ১৯৯৮ সালে একই উপকূলে আঘাত হানা আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ে কয়েক হাজার লোক নিহত হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য