যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের সামনে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

পুলিশের নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড নামের একজন কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর পর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রবল বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে শহরের পর শহরজুড়ে কারফিউ জারি করা হলেও তা মানছেন না প্রতিবাদকারীরা।

শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির প্রতিবাদকারীরা হোয়াইট হাউসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এক পর্যায়ে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস ও যুক্তরাষ্ট্রের পার্ক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারে বিক্ষোভকারীরা, দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধ্বস্তধ্বস্তিও হয়।

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কিছুক্ষণের জন্য হোয়াইট হাউসের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঘটনাটির বিষয়ে সরাসরি অবগত, এমন একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরটি জানিয়েছে তারা।

এক ঘণ্টারও কম সময় ট্রাম্প ওই বাঙ্কারে ছিলেন। এরপর তাকে ফের উপরে নিয়ে আসা হয়। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়া ট্রাম্প ও ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।

রোববার ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ দেখায়, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করে ও তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার বুলেট ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে।

ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছ। বাহিনীটির আরও দুই হাজার সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে বর্ণবাদবিরোধী এ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েকশ লোককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ তাদের চার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক শভিনও আছেন।

শুক্রবার গ্রেপ্তার করার পর শভিনের বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য