দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর শস্য ভান্ডারের অপরিসীম স্থান। এখানে অন্যান্য শস্যের চেয়ে ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। সেই দিক থেকে এবার দিনাজপুর বোরো মৌসুমে ধানের আশানারুপ ফলন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারনের তথ্য অনুসারে জেলায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে,উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ৮ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে দিনাজপুর সদরে ১৮০৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। জেলায় প্রায় ১৬ প্রকার উচ্চ ফলনশীল এবং ৬ প্রকার হাইব্রীড ধান চাষ হয়। যদিও জেলায় কৃষি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। বেশকিছু দিন আগে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম ধান কাটা মাড়াই এর উদ্বোধন করেছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে জেলায় ধান কাটা মাড়াইর জন্য গত মৌসুমে ৩১ টি হারভেষ্টার মেশিন ছিল বর্তমানে আরও ৪৯ টি হারভেষ্টার মেশিন বরাদ্ধ হয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে প্রতিযোগীতায় কৃষকরা ধান কাটার হারভেষ্টার মেশিন নিতে সক্ষম হয় যদিও চাহিদার তুলনায় সামান্য। কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ থেকে বলছে কৃষকের হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে প্রতি বিঘা ধান কাটা মাড়াই করতে নির্ধারিত রেটে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হবে। বাস্তবে লক্ষ্য করা যায় বেশীরভাগ কৃষকরা শ্রমিক দিয়ে তাদের প্রয়োজনে প্রতি বিঘা ধান কাটতে ৩৫০০-৪৫০০ টাকা খরচ করছে। বর্তমানে কৃষকদের বড় চিন্তার বিষয় ধানের নায্য দাম পাওয়া।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে দিনাজপুর খাদ্য বিভাগ বোরো মৌসুমে ৩২ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন ধান এবং মিল মালিকদের কাছ থেকে ৯১ হাজার মেট্রিকটন চাল ক্রয় করবে। দিনাজপুর জেলায় ধানের যে লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হয়েছে তার তুলনায় অতি সামান্য এতে কৃষকের দামের ক্ষেত্রে নায্য দামের প্রভাব পড়বে কম।

দিনাজপুর জেলায় ৫০% বোরো ধান কাটা হয়েছে কিন্তু বর্তমানে কিছু দিন ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং ঝড় হওয়াতে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা নায্য দামে ধান বিক্রয়ের জন্য চিন্তিত। বর্তমানে হাট-বাজারে ধানের দাম কম লক্ষ্য করা গেছে।

দিনাজপুর সদর ৪ নং শেখপুরা ইউনিয়নের ভাট পাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা দূর্যোগে শ্রমিকের চাহিদা বেশী তাই প্রতি বিঘায় ধান কাটতে ৪০০০ হাজার টাকা খরচ লেগে গেছে নিজেকেও শ্রম দিতে হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের ফলে ধান পানিতে ভিজে গেছে ফসলও কম পাওয়া গেছে। সরকার যে পরিমান ধান ক্রয় করছে তাতে আমাদের কোন লাভ হচ্ছে না। তবে সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহন করলে নায্য দাম পাবো।

মহারাজপুরের আরেক কৃষক সনাতন রায় বলেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছিল কিন্তু ঝড় ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারনে ফলন কম পাবো। বাজারে নায্য দাম পাইলে হবে।

সদর উপজেলা ৪ নং শেখপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মমিনুল ইসলাম ফোনে বলেন, কৃষকরা আগে ধানের নায্য দাম পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে ধানের বাজার একটু কম প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য। এর মধ্যে দূর্যোগ না হলে কৃষকরা সমস্যা কাটিয়ে উঠবে তবে সরকার দিনাজপুর জেলায় ধান কেনার বরাদ্ধ বৃদ্ধি করলে বাজারের উপর প্রভাব পড়বে।

এই বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ তৌহিদুল ইকবাল সাক্ষাতে বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে, আবহাওয়া ভাল থাকলে কৃষকরা সমস্যা কাটিয়ে উঠবে। বর্তমানে কৃষকের যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা চেয়ে ০.৩% কম। সেই তুলনায় ২০২৮ মেট্রিক টন ফসল কম পাওয়া যাবে। যা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে আর্থিক প্রনোদনার জন্য। আর সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ধান কেনার বরাদ্ধ বেশী বাড়ানোর বিষয়ে চাহিদা চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য