আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ করোনা সন্দেহে পোশাক কারখানার শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের (২২) মরদেহ তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে মৌসুমী আক্তার করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না বলে বুধবার (২৭ মে) রাত সাড়ে ১১ টায় নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায়।

এর আগে মৌসুমী আক্তারের নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। মৃত মৌসুমী আক্তার নামে ওই নারী পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের সরকারের হাট এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি ব্যাগে মোড়ানো মর্গের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইউডি মামলা করা হয়েছে। মৃত্যের পরিচয় জানার পরে মেয়ের বাবার আকুতি শুনে পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুই থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ তার গ্রামে দাফন করা হয়েছে’।

জানাগেছে, মৌসুমী আক্তার। কাজ করতেন গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায়। ২২ বছর বয়সী এই পোশাক শ্রমিক অসুস্থতা নিয়ে গত ২১ মে ট্রাকে করে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই ট্রাকেই তার মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাস সন্দেহে পরের দিন লাশটি ফেলে পালিয়ে যায় ট্রাকচালক।

পরের দিন রংপুরের তাজহাট থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। খবর পেয়ে পরের দিন হাসপাতালে ছুটে যান তার বাবা। তিনি লাশ গ্রামে কবর দিতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। পরে লাশবাহী গাড়ির চালককে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে লাশটি দাফন করতে বলেন সেই বাবা।

কিন্তু লাশটি দাফন না করে তিস্তা নদীতে ফেলে দেয় ওই লাশবাহী গাড়ির চালক। সেই লাশ গত রবিবার উদ্ধার করে আদিতমারী থানার পুলিশ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ওই পোশাক শ্রমিকের বাবা। পরে প্রশাসনের নেতৃত্বে সোমবার ঈদের দিন বিকেলে মরদেহের জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করে পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য