মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে যুক্তরাজ্যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে নতুন এক হিসাবে বলা হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস থেকে পাওয়া মৃত্যুর নতুন হিসাব, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের আগের তথ্য এবং ইংল্যান্ডের হাসপাতালে সম্প্রতি মৃতদের সংখ্যা যোগ করে যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ এ মৃত্যু অন্তত ৪২ হাজার ৯৯০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাবটিতে বলা হয়েছে।

তবে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্যে দেশটিতে কোভিড-১৯ এ মোট মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৪২২ বলে জানানো হয়েছে।

দুই হিসাবেই নতুন করোনাভাইরাসে যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা ইউরোপে সর্বোচ্চ, বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। এখন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রই কোভিড-১৯ এ যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে।

কেবল মৃত্যুই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ব্রাজিলের পর বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যেই সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ওএনএস) দেওয়া হিসাব দেশটির কেয়ার হোমগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর এক ধূসর চিত্রও হাজির করেছে। ওএনএসের মৃত্যুর হিসাবে সন্দেহভাজন আক্রান্তরাও স্থান পেয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ৮ মে-তেই যুক্তরাজ্যজুড়ে কেয়ার হোমগুলোকে কোভিড-১৯ এ মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরের দুই সপ্তাহে অবশ্য এসব হোমগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকখানিই কমেছে।

“কেয়ার হোমসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই মৃত্যু কমছে। কিন্তু কেয়ার হোমে থাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের রক্ষায় সম্ভব সব কিছু করা অব্যাহত রাখতে হবে আমাদের,” বলেছেন প্রধানমন্ত্রী জনসনের এক মুখপাত্র।

পাঁচ মাসে বিশ্বব্যাপী তিন লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া নতুন করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত যে দেশগুলোতে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে, যুক্তরাজ্য তার অন্যতম।

কোভিড-১৯ এ ব্যাপক আক্রান্ত-মৃত্যু দেশটির প্রধানমন্ত্রী জনসনের উপরও ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। মহামারী মোকাবেলায় তার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্রিটিশ সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলছে, জনসন এমন দাবি করেছেন। কিন্তু বিরোধীরা সংক্রমণের বিস্তৃতির জন্য ভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহে প্রধানমন্ত্রীর তুলনামূলক ধীরে চলো নীতিকে দোষারোপ করছেন।

মার্চে দেশটির প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কোভিড-১৯ এ যুক্তরাজ্যে মোট মৃত্যু ২০ হাজারের নিচে রাখা গেলে, তাকে ‘ভালো ফল’ বলা যাবে বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সরকারের ধারণায় সবচেয়ে বাজে অবস্থাতেও মৃত্যু ৫০ হাজারের মধ্যে থাকবে বলে এপ্রিলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য