দিনাজপুর সংবাদাতাঃ করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজারে আসতে শুরু করেছে রংবেরঙের পাকা আম। বিক্রেতারা দেশের আম উৎপাদন জেলা রাজশাহীর নাম বলে এই সব আম বিক্রী করছে, দামও বেশ চড়া।

ব্যবসায়ীরা বলছেন,  যে আম পাওয়া যাচ্ছে তা রাজশাহী ও সাতক্ষীরা থেকে আসা। চাষিরা বাড়তি দাম পাওয়ার কারণে পরিবহন বন্ধ থাকার পরও কষ্ট করে বাজারজাত করছেন। তবে বাজারে আমের যে চাহিদা আছে সরবরাহ তার তুলনায় অনেক কম। এ কারণে দাম বাড়তি। তাছাড়া প্রতি বছরই আম বাজারে যখন নতুন আসে তখন দাম একটু চড়াই থাকে।

রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাছপাকা আম উঠতে আরও সময় লাগবে। তবে ক্রেতার চাহিদা থাকায় অপরিপকস্ফ আম পাকিয়ে বিক্রি করছে অসাধু ফল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। মৌসুমের শুরুতে আকাশচুম্বী দাম পাওয়ার আশায় আম পাকাতে রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে।

এখন বাজারে যে আম পাওয়া যাচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবে পাকা নয়। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের আমের সঙ্গে দেশীয় অপরিপকস্ফ কাঁচা আম কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে বিক্রি হচ্ছে। এসব আমের পচন ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফরমালিন। ক্রেতার কাছে আকর্ষণীয় করতে মেশানো হচ্ছে কৃত্রিম রঙ। পাকা আমের মতো দেখতে হলেও এতে নেই পাকা আমের স্বাদ। অতি মুনাফার লোভে রাসায়নিক দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো এ আম মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, মিশ্রিভোগ বলায় আমি কাল ১৯০টাকা দরে ৩ কেজি আম কিনেছিলাম, কিন্তু সেই আমের স্বাদ গন্ধ কিছুই মিশ্রিভোগের মত নয়। শহরের বাহাদুর বাজার, চক বাজার, রেলবাজার, ফুলবাড়ী বাসস্টেন্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় এধরনের আম বিক্রী হতে দেখা যাচ্ছে।

এবিষয়ে দিনাজপুর নিবাসি উপজেলা পর্যিয়ের কৃষিকর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক ভাবে আম পাকতে এখনও বেশ দেরি আছে। বাজারের যেসব আম পাওয়া যাচ্ছে তা না খাওয়াই ভাল, যদি রাসায়নিক মিশ্রিত হয় তবে পেটের সমস্যার কারন হয়ে দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য