আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ আধুনিকতার সাথে তাল মেলাতে না পেরে এমনিতেই ধুঁকছিল তাঁতশিল্প। তার মাঝেই সংক্রমণের থাবা বসাল করোনাভাইরাস।

ফলে তাঁতপল্লীতে চলছে সুনশান নিরবতা। মুখ থুবড়ে পড়েছে তাঁতশিল্প। আর রুজি-রুটি হারিয়ে এখন অর্ধাহারে-অনাহারে দূর্বিষহ জীবনযাপন করছেন কর্মহীন তাঁতি পরিবারগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ভাবে আর্থিক সহযোগীতা না পেলে ধ্বংসের মুখে পড়বে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তাঁতশিল্প এবং বেকার হবে এ শিল্পের কারিগররা এমনটাই মনে করছেন তাঁত কারখানার মালিকেরা।

জানা গেছে, এ উপজেলার কাকিনায় প্রায় ৩শতাধিক তাঁতী পরিবার রয়েছে। এসব তাঁতীরা অধিকাংশ ব্যবসার আয়ের উপর নির্ভর করে ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। তাঁতীরা উৎপাদিত কাপড় বেচে তারা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। কিন্ত করোনা দূর্যোগে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁতি পরিবারগুলো।

এদিকে পহেলা বৈশাখ ও ঈদ উপলক্ষে আগে যেসব তাঁতপল্লী খটখট শব্দে মুখরিত ছিল। করোনার প্রভাবে সেই তাঁতীপাড়া এখন নিস্তব্ধ। সারা বছর ধরে তাঁতীরা এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই সময়ে কাপড়ের বেশি চাহিদা থাকায় তাদের দম ফেলার সময় থাকে না। অথচ বছরের সবচেয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাঁতিরা।

তাঁত শিল্পী আবু বক্কর বলেন, কাকিনা তাঁতি পাড়ায় প্রায় ৩’শতাধিক তাঁতি আছেন। এরা করোনার জন্য তাঁত বোনাতে পারছে না। দুই-চারজনের ঘরে তাঁত বোনাচ্ছে। হাতে হাতে বিক্রি করছে। তাও খুবই কম।

তাঁত শিল্পী আমেনা বেগম বলেন, প্রতি সপ্তাহে যে টাকা মজুরী পেতাম তা দিয়ে কোনভাবে পরিবার নিয়ে কেটে যেত। তাঁত বন্ধ থাকায় কোন মজুরী পাই না। কোন কাজকর্ম নেই। ঘরেও কোন খাবার নেই বাজার নেই কার কাছে বলবো। কি যে কষ্টে আছি তা আল্লাহ জানেন।

তাঁত শিল্পী সবুজ মন্ডল জানান, আমরা এখানে ২২৮ জন তাঁতি নিয়ে একটা সমিতি গঠন হয়েছে। ১৯০৬ সালে এটা রেজিস্ট্রেশন করা। এই রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পরেও আমরা একত্রিতভাবে কিছু তাঁত ব্যবসা করতাম। আমাদের পাইকাররা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন শহরে রপ্তানি করতো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সব অচল হয়ে গেছে। কেউ ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছে না। কারো তাঁত চলছে না। এখন আমাদের দিনপাত চলা খুবই কঠিন ব্যাপার।

তাঁত শিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, গত বছর লাখের ঊর্ধ্বে হইছে। এবার বোধ হয় হাজার পাঁচেক টাকাও বিক্রি হবে না। লোকজন আসে না। কী দিয়ে কী করবো, দোকানপাট বন্ধ।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিমান ত্রাণ এসেছিল তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কর্মহীনদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় নাই। আবার বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে। তাঁত মালিকদের ঋণের সুদ মওকুফসহ আর্থিক সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ করা হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর  জানান, কৃষি প্রণোদনা এবং অন্যান্য শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে কাকিনার তাঁত শিল্পী রয়েছেন এবং করোনার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য