আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধকল্পে সরকারি নির্দেশনার আলোকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন সম্পর্কিত এক জরুরী সভা সোমবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন।

সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্যাহ হারুন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাজিজের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাকসুদার রহমান শাহান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক, জেলা কৃষি অফিসার, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি কেএম রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, জেলা ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

সভায় সিদ্ধান- গৃহীত হয় যে, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাইবান্ধার সর্বত্র আসন্ন ঈদ-উল ফিতরের নামাজ ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে অবশ্যই মসজিদে পড়তে হবে। নামাজে আগত মুসুল্লীদের মাস্ক পড়ে বাড়ি থেকে জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদের কোন কার্পেট ছাড়াই খোলা মেঝেতে নিজ নিজ জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। ওযুর স’ানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান রাখতে হবে। শিশু ও বয়ো-বৃদ্ধদের মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

মসজিদে আগত মুসুল্লীরা যাতে ঈদের নামাজে অংশ গ্রহণ করতে পারে সেজন্য প্রতিটি মসজিদ কমিটিকে একাধিক জামাতের নামাজ আয়োজন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া একটি সারি বাদ দিয়ে পাশাপাশি ৩ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নিতে হবে বলে সভায় সিদ্ধান- গৃহীত হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গাইবান্ধার কেন্দ্রীয় ঈদের নামাজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে বড় মসজিদে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এবং ৯টা ৩০ মিনিটে দুটি জামাতে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঈদ সংক্রান্ত সভা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘কার্বাইড মিশ্রিত বিষাক্ত আম বিক্রয় প্রতিরোধ কল্পে’ শীর্ষক এক বিশেষ সভা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সিভিল সার্জন, পৌরসভার মেয়র, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আম ব্যবসায়িরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কার্বাইড যুক্ত আম বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া আগাম রাজশাহী এবং রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম মে মাসের মধ্যে বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনস্বার্থে সোমবার বিকাল ৪টা থেকে দোকানপাট ও মার্কেট সমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ সংক্রান- জেলা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার সিদ্ধান- মোতাবেক কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আবদুল মতিন এক গণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ জারি করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীর, পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন, সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জেবুন নাহার, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্যাহ হারুন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাজিজের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাকসুদার রহমান শাহান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক, জেলা কৃষি অফিসার, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি কেএম রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, এসএ টিভির গাইবান্ধা প্রতিনধি কায়সার প্লাবন প্রমুখ।

গণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বাজার যথাযথ স্বাস’্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শর্তসমূহ পালন সাপেক্ষে খোলা রাখার সিদ্ধান- নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন দোকানপাট বিশেষ করে কাপড়ের দোকান, তৈরী পোশাকের দোকান, কসমেটিক ও জুতার দোকানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় এসব প্রতিষ্ঠানে আগত ক্রেতা/বিক্রেতা সরকার প্রদত্ত শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সম্পুর্ণ অবহেলা প্রদর্শন করছেন যা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বিস-ারের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

সেজন্য জনসাধারণ তথা গাইবান্ধা জেলাবাসির স্বাস’্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সোমবার ১৮মে অনুষ্ঠিত জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় কমিটির সদস্য, ব্যবসায়ি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ি সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাক্রমে ১৮মে বিকাল ৪টা থেকে গাইবান্ধা জেলার সকল কাপড়ের দোকান, তৈরী পোশাকের দোকান, কসমেটিকস ও জুতার দোকান/মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান- গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জনসাধারণের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ইতোমধ্যে জারিকৃত সকল আদেশ বলবৎ থাকবে এবং জনস্বার্থে এ আদেশ ১৮ মে বিকাল ৪টা হতে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন- বলবৎ থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য