ইয়েমেনের হুদাইদা বন্দরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনগামী অন্তত ২২টি জাহাজ আটক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এসব জাহাজে করে জ্বালানিপণ্য এবং খাদ্য সামগ্রী নেয়া হচ্ছিল। সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান বন্দরে জাহাজগুলো নোঙর করা ছিল।

হুদাইদা বন্দরের ওই কর্মকর্তা জানান, জাহাজগুলোতে গ্যাসোলিন ও ডিজেলসহ পাঁচ লাখ টনের বেশি তেলজাত পণ্য, আট হাজার টনের বেশি গ্যাস, ১০ হাজার টন আটা এবং নয় হাজার টন চাল ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার রাতে এডেন উপসাগর এবং ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লা উপকূলে একটি জাহাজে হামলা হয়েছে। এদিকে, ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স তাদের ওয়েবসাইটে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সোমবার গ্রিনিচ সময় সাড়ে বারোটায় হামলা হয়। ওই এলাকা দিয়ে নিজেদের জাহাজ চলাচলের উপর সর্তকতা জারি করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, গতকাল ইয়েমেনি সেনা এবং জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের যোদ্ধারা সৌদি ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দুটি হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে। তার আগে সৌদি ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ‌ইয়েমেনি সেনা ও আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের কয়েকঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ হয়।

ইয়েমেনে যাতে মহামারী করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশ করতে পারে সেজন্য আগ্রাসী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেন।

এদিকে ইয়েমেনের সর্বোচ্চ বিপ্লবী কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আল হুথি গতকাল (রোববার) এক টুইট বার্তায় বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে অবরোধের অবসান ঘটানো এবং এখানে যাতে সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ করে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশ করতে পারে সেজন্য সৌদি জোটের ওপর চাপ বাড়াতে আমরা বিশ্বের জাতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ইয়েমেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কত বাড়ল সে ব্যাপারে হিসাব না করে বিশ্বের দেশগুলোকে উচিত সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখা।

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরব ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া, আহত ও উদ্বাস্ত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। এ নিয়ে একমাত্র ইরান কথা বলছে; বাকি বিশ্ব একেবারেই চুপ রয়েছে।

ইয়েমেনে এখন পর্যন্ত ১২৮ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাস কোভিড-১৯’এ আক্রান্ত হয়েছে এবং এদের মধ্যে ২৮ জন মারা গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে করোনা পরিস্থিতি ভয়ানক আকার ধারন করতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও এরইমধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য