দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে লিচুর জুড়ি নেই। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এবার নানা প্রজাতির মধুমাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু প্রাণঘাতী কোভিড-১৯) করোনাভাইরাসের প্রভাবে দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে লিচু চাষিরা।

এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার সময় জানা যায়,বীরগঞ্জ উপজেলার গ্রামের প্রতিটি লিচু বাগানে প্রচুর লিচু ধরেছে। লিচু আকার বড়ো ও পাকতে শুরু করেছে। সপ্তাহ -দশ দিনের মধ্যে পুরোদমে লিচু সংগ্রহ শুরু হবে। গতবছর এসময় অপরিপক্ব লিচু দিয়ে বাজার ভোরে গিয়েছিল।

এবার করোনার কারণে বাজারে এখন পর্যন্ত লিচু উঠতে শুরু করেনি। পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে লিচু রক্ষার্থে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে চাষিরা। কাহারোল উপজেলার রামপুর গ্রামের লিচু চাষি মোঃ সাদিকুল ইসলাম মিলন (৩৪) জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর তার ৫টি বাগানের ৫শ’গাছে প্রচুর লিচু এসেছে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় এপর্যন্ত তার ২ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর এ বাগান কয়টি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনে ছিলাম। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের প্রভাবে ও পরিবহন সংকটে লিচুর প্রকৃতি দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লিচু চাষি মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে লিচু ব্যবসায়ীরা না এলে আমরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাব না।

এ নিয়ে আমরা চিন্তায় রয়েছি। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর উপজেলায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। করোনার ঝুঁকিতেও আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

বীরগঞ্জে লিচুর আকৃতি, রঙ ও স্বাদে ভিন্ন হওয়ায় এ উপজেলার লিচুর চাহিদা বেশি। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর লিচুর দামের উপর করোনার প্রভাব তেমন পড়বে না। চাষিরাও ভালো দামে বিক্রয় করতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য