করোনাভাইরাস নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটে শরিফুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় তাকে পাটগ্রাম পৌর শহরের মির্জারকোর্ট এলাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাতে পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাটগ্রাম (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত।

শরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আদর্শ ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী পলাশী এলাকার খায়রুল ইসলামের ছেলে।

মামলার বিবরণে ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে মো. শফিকুল ইসলাম তার নিজের ফেসবুকের ওয়ালে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি বিভ্রান্তিমূলক স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘কোলাকুলি ও মোসাফা করা থেকে বিরত থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা– এসব কথা কোরআন, ইসলাম ও ঈমান আমলের উপর বড় আঘাত হেনেছে। ঘন ঘন স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, মাস্ক ব্যবহার, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসায় থাকুন, নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন– ভাইরাস প্রতিরোধে এই সমস্ত কথা ৯৯.৫০% ভুয়া। কেউ এসব কথা সত্য প্রমাণিত করতে পারলে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবো, ব্যর্থ হলে সে দুই লাখ ক্ষতি পূরণ দেবে এবং সরকার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে।’ এছাড়াও তিনি ফেসবুকে আরও অনেক অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ওসি বলেন, ‘শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারের প্রচলিত আইনকে অস্বীকার এবং করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছিলেন। তাকে সতর্ক করার পরও উল্টো আরও ধর্মান্ধ হয়ে ওপেন চ্যালেঞ্জ করে বাজি ধরে ফের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এবং অন্যদের সঙ্গে বিতর্ক করে আসছিলেন। যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি প্রশাসনের নজড়ে আসে। এরপরে আমরা অধিকতর তদন্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রেকর্ড করে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছি। বুধবার দুপুরে তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে।’

পাটগ্রাম আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহ নূর উন নবী কামাল বলেন, ‘কেউ ব্যক্তিগত অপরাধ করলে সেজন্য প্রতিষ্ঠান কোনও দায় নেবে না। শরিফুল ইসলাম যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারেন সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যেহেতু বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের বাইরের স্পর্শকাতর ঘটনা, তাই এখানে প্রতিষ্ঠানের কিছু করণীয় নেই।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য